২ লিটার পেট্রোলের জন্য রাতভর সড়কে জনগণের অপেক্ষা
মোস্তাফিজার রহমান (জাহাঙ্গীর), কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মাত্র ২ লিটার পেট্রোল সংগ্রহের আশায় রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনি আর অনিদ্রায় সড়কে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে স্থানীয়সহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা মোটরসাইকেল চালকদের।
দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে ফুলবাড়ীর ৩টি ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ করা হবে—এমন খবরে রোববার রাত ৮টা থেকেই লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন চালকরা। উপজেলার ফুলবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজ এবং ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত প্রতিটি লাইনের দৈর্ঘ্য প্রায় দেড় কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে।
সড়কের পাশে নির্ঘুম রাত

সরেজমিনে দেখা গেছে, পেট্রোল পাওয়ার আশায় গভীর রাতে সড়কের এক পাশে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। অনেক চালককে ক্লান্ত শরীরে রাস্তার পাশেই শুয়ে রাত কাটাতে দেখা গেছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তায় চালকদের মধ্যে চরম ক্লান্তি ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। পাম্পে তেলের সরবরাহ অত্যন্ত কম থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
আয় কমেছে শ্রমজীবীদের
এই সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ এবং যারা মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় তাঁদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাঁদের উপার্জনে। আয় কমে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে আর্থিক অসচ্ছলতা ও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতা
পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সরবরাহ কম থাকায় প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটার করে পেট্রোল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে সবাই কমবেশি তেল পান। তবে এই সামান্য তেলের জন্য হাজারো মানুষের এমন উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়বে।
