ময়মনসিংহে গ্রাম আদালতের জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত পরিকল্পনা কর্মশালা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

‘অল্প সময়ে স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে, চলো যাই গ্রাম আদালতে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক সমন্বিত পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষের হলরুমে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
গ্রাম আদালতের এক্তিয়ার ও গুরুত্ব
কর্মশালায় বক্তারা জানান, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ এবং নামমাত্র খরচে আইনি সেবা বা বিচারসেবা নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত অনন্য ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিতে এর কার্যকারিতা অপরিসীম। আদালতটির উল্লেখযোগ্য আইনি এক্তিয়ারসমূহ হলো:
- সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত যেকোনো আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তি।
- চুক্তি বা রসিদভিত্তিক বকেয়া অর্থ আদায়।
- অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা তার উপযুক্ত মূল্য আদায়।
- স্থাবর সম্পত্তি বেদখল হওয়ার এক বছরের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধার।
- অস্থাবর সম্পত্তি জবরদখল প্রতিরোধ এবং স্ত্রীর ভরণপোষণ সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি।
সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, গ্রাম আদালত সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে গ্রামীণ স্তরের বিরোধগুলো স্থানীয়ভাবেই শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে। এর ফলে উচ্চ আদালতগুলোর ওপর থেকে মামলার অতিরিক্ত জট ও চাপ অনেকটাই কমে আসবে।
সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন:
“গ্রাম আদালত হলো সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য, দ্রুত এবং স্বল্প ব্যয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি অত্যন্ত কার্যকর আইনি ব্যবস্থা। সদর উপজেলায় এর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, কার্যকর ও জনমুখী করতে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে। সচেতন নাগরিক ও জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।”
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা তামান্না হুরায়রা। বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী কৃষ্ণ চন্দ্র রায়-এর সুচারু সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিবৃন্দ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় পর্যায়ে গ্রাম আদালতের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি সমন্বিত প্রচারণার রূপরেখা প্রণয়নে একমত পোষণ করেন।
