নিরাপদ পোলট্রি উৎপাদনের কৌশল নিয়ে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার
নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপদ, টেকসই ও সহনশীল পোলট্রি উৎপাদন নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান হেলথ’ (One Health) পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার আয়োজন করেছে সার্ক কৃষি কেন্দ্র (এসএসি)। আজ সোমবার (৮ জুন ২০২৬) ‘ওয়ান হেলথ পদ্ধতির আলোকে নিরাপদ পোলট্রি উৎপাদন’ শীর্ষক এই ওয়েবিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সার্ক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশ নেন।
জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় ‘ওয়ান হেলথ’
ওয়েবিনারের উদ্বোধনী বক্তব্যে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মোঃ হারুনূর রশীদ বলেন, পোলট্রি খাতের উন্নয়ন ও নিরাপদ উৎপাদন ব্যবস্থা এখন আর কেবল খাদ্য নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি আরও উল্লেখ করেন:
“প্রাণী, মানুষ এবং পরিবেশ—এই তিনের স্বাস্থ্যকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করার মাধ্যমেই ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতি বর্তমান ও ভবিষ্যতের যেকোনো ধরনের মহামারি বা রোগব্যাধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।”
উন্নত খামার ব্যবস্থাপনা ও রোগঝুঁকি হ্রাস
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের কৃষি গবেষণা পরিষদ (আইসিএআর)-এর পোলট্রি গবেষণা অধিদপ্তরের পোলট্রি নিউট্রিশন বিভাগের প্রধান ড. শ্যাম সুন্দর পাল। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে পোলট্রি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং খামারের রোগঝুঁকি কমিয়ে আনার জন্য উন্নত জৈবনিরাপত্তা (Biosecurity) ব্যবস্থা, সুষম পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং দায়িত্বশীল খামার ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর ফুড এজেন্সির ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফুড সায়েন্সের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট মিস জিয়াউ ই তান পোলট্রি খাতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও রোগ প্রতিরোধে একটি সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি পোলট্রি সাপ্লাই চেইনের বা খাদ্যশৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপে ঝুঁকি কমাতে প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ, জনস্বাস্থ্যবিদ এবং খামারিদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান
ওয়েবিনারটি সফলভাবে সঞ্চালনা করেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (লাইভস্টক) ড. মো. ইউনুস আলী। অনুষ্ঠানটিতে সার্কভুক্ত ৮টি সদস্য রাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পোলট্রি বিশেষজ্ঞরা যুক্ত হন। আলোচকরা একমত হন যে, নিরাপদ ও টেকসই পোলট্রি উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে আঞ্চলিক তথ্য বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।
