সেনবাগে স্কুলছাত্র ফাহিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩, প্রধান আসামির স্বীকারোক্তি
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবিশিংপুর গ্রামে মাদক ব্যবসায়ীদের ছুরিকাঘাতে নিহত স্কুলছাত্র মো. আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৫) হত্যা মামলার আরও দুই এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে আলোচিত এ হত্যা মামলায় মোট তিনজন আসামি পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ থেকে দুই আসামি গ্রেপ্তার
সোমবার (১৫ জুন) রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সেনবাগ থানা পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানকারী দল নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ৪ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি মো. মমিন উল্লাহ (৫০) এবং ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি মো. জাহাঙ্গীরকে (২৪) গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাদের সেনবাগ থানায় নিয়ে আসা হয়। রাত প্রায় ১২টার দিকে তারা থানায় পৌঁছান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
প্রধান আসামির স্বীকারোক্তি ও ওসির বক্তব্য
এর আগে হত্যাকাণ্ডের পরপরই মামলার প্রধান আসামি হারুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করে সেনবাগ থানা পুলিশ। পরবর্তীতে তিনি নোয়াখালীর বিচারিক আদালতে হাজির হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নারায়ণগঞ্জ থেকে দুইজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলার মোট তিনজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর মধ্যে প্রধান আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও ক্ষোভ
উল্লেখ্য, গত ১০ জুন রাতে সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবিশিংপুর গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে স্কুলছাত্র মো. আরাফাত হোসেন ফাহিম। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং নিহতের পরিবার জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদককারবার নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। ফাহিম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হলে সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
