রাজারহাটে এমপিও জালিয়াতি: ২০ পদে ভুয়া নিয়োগের অভিযোগ
মোস্তাফিজার রহমান (জাহাঙ্গীর) কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল জালিয়াত চক্র। মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধি, নিয়োগ বোর্ড ও ল্যাব অনুমোদনপত্র জালিয়াতি করে গত ৫ মাসে অন্তত ২০টি পদে ভুয়া এমপিওভুক্তি করার অভিযোগ উঠেছে। এই চক্রটি মাত্র কয়েক মাসে প্রায় ৫ কোটি টাকার ‘এমপিও বাণিজ্য’ সংঘটিত করেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
জালিয়াতির আখড়া বড়ঘাট গমীর উদ্দিন মাদ্রাসা
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বড়ঘাট গমীর উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল আউয়াল জালিয়াতির মাধ্যমে তার দুই কন্যাকে এমপিওভুক্ত করেছেন। তার এক কন্যা আক্তারুন্নাহারের এমপিও জালিয়াতির কারণে ২০২৫ সালের আগস্টে বাতিল হলেও, প্রশাসনিক নির্দেশ উপেক্ষা করে মাত্র এক মাস পর তাকে পুনরায় ‘সহকারী লাইব্রেরিয়ান’ পদে এমপিওভুক্ত করা হয়। এছাড়া এনটিআরসিএর সুপারিশ ছাড়াই তার অপর কন্যা আরিফুন্নাহার মুন্নিকে ‘সহকারী মৌলভী’ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে ওই মাদ্রাসায় কোনো কম্পিউটার ল্যাব বা বিজ্ঞানাগারের অস্তিত্ব না থাকলেও ল্যাব অপারেটর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে জনবল এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।
একের পর এক মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্য
শুধু একটি মাদ্রাসা নয়, সিরাজউদ্দিন দাখিল মাদ্রাসায় এডহক কমিটি থাকা সত্ত্বেও বিধিবহির্ভূতভাবে নৈশপ্রহরী ও আয়া পদে নতুন এমপিও করানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিয়মিত কমিটি বা ইউএনওর জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে ব্যাকডেটে এসব নিয়োগ দেখানো হয়েছে। এছাড়া বুড়িরহাট আব্দুস সাত্তার মন্ডল দাখিল মাদ্রাসা, কানুরাম সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা ও সুকদেব ফাজিল মাদ্রাসাসহ অন্তত অর্ধ-ডজন প্রতিষ্ঠানে একই কায়দায় ভুয়া এমপিও হয়েছে।
ঘুষের অঙ্ক ১৫ থেকে ২০ লাখ
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি পদে এমপিওভুক্তির জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়েছে। ডাংরারহাট আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসায় কর্মচারীর ৪টি পদে নিয়োগের আগেই ৭৫ লাখ টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে বড়ঘাট মাদ্রাসার সুপার আব্দুল আউয়াল ল্যাব থাকার দাবি করলেও তা দেখাতে ব্যর্থ হন এবং সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। কানুরাম দাখিল মাদ্রাসার সুপার সাইফুল ইসলামও কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আল ইমরান বলেন, “মাদ্রাসাগুলোতে এমপিও সংক্রান্ত জালিয়াতির কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
