আপনার অধিকার আপনাকেই প্রতিষ্ঠিত করতে হবে – বিচারপতি আব্দুল হাকিম
স্টাফ রিপোর্টার

সাংবাদিকদের নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম বলেছেন, “আপনার অধিকার আপনাকেই প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অধিকার কেউ কাউকে দেয় না, এটা আদায় করে নিতে হয়। আর এই অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।”
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পেশাগত ঐক্য ও বিভাজন নিরসন
বিচারপতি আব্দুল হাকিম বলেন, “সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। কিন্তু আমি এখানে এসে দেখলাম সাংবাদিকদের মধ্যে অনেক বিভাজন ও গ্রুপিং। এক সময় ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব থেকে জাতীয় মানের প্রতিভা বেরিয়ে আসতো, আজ সেখানে বিভক্তি। আপনারা যদি নিজেরা ঐক্যবদ্ধ না থাকেন, তবে আপনাদের অধিকার আদায় করা কঠিন হয়ে পড়বে। বিভাজন ভুলে এক হোন, তাহলেই আপনারা শক্তিশালী হবেন।”
প্রেস কাউন্সিলের কার্যপরিধি ও মামলা প্রক্রিয়া
প্রেস কাউন্সিলের আইনি এখতিয়ার ও কার্যপরিধি তুলে ধরে চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল একটি আধা-বিচারিক (Quasi-judicial) সংস্থা। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেমন এখানে অভিযোগ করা যায়, তেমনি সাংবাদিকরাও তাদের ওপর কোনো অন্যায় হলে এখানে প্রতিকার চাইতে পারেন। তবে মামলা করার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। কোনো সংবাদের বিষয়ে ক্ষুব্ধ ব্যক্তি প্রথমে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদকের কাছে প্রতিবাদলিপি পাঠাবেন। সম্পাদক যদি তা না ছাপান বা ৩০ দিনের মধ্যে জবাব না দেন, তবেই প্রেস কাউন্সিলে মামলা করা যাবে।
তথ্য অধিকার আইনের সঠিক প্রয়োগ
তথ্য অধিকার আইনের সঠিক প্রয়োগের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “তথ্য পাওয়া নাগরিকের অধিকার। কিন্তু অনেকেই তথ্য চাওয়ার সঠিক প্রক্রিয়া জানেন না। নির্দিষ্ট ফরমে বা সাদা কাগজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে হয়। ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য না পেলে আপিল করার সুযোগ আছে। সাংবাদিক হিসেবে এই আইনটি নখদর্পণে থাকা জরুরি।”
সাইবার নিরাপত্তা আইন ও সাংবাদিকতার আচরণবিধি
সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে সতর্ক করে বিচারপতি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হয়ে এখন সাইবার নিরাপত্তা আইন হয়েছে। এই আইনের ২৫ ও ২৯ ধারা সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানহানির বিষয়ে সাংবাদিকদের আরও সতর্ক হতে হবে এবং সংবাদ পরিবেশনে সর্বোচ্চ বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের জন্য ১৯৯৩ সালে প্রণীত আচরণবিধিতে ২৫টি দফার কথা বলা আছে, যা ২০০২ সালে সংশোধন করা হয়েছে। পেশার মর্যাদা রক্ষায় প্রতিটি সাংবাদিকের উচিত এই আচরণবিধি মেনে চলা।

প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ ও অপসাংবাদিকতা রোধ
প্রেস ক্লাব প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রেস ক্লাব কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি ‘প্রাইভেট ক্লাব’। ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারা ঠিক করবেন কে সদস্য হবে। এটি কারও দাবি করার বিষয় নয়, বরং অর্জনের বিষয়।
সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরলে প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান তা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমাধানে প্রেস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি অপসাংবাদিকতা রোধে এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন।
