বিস্ফোরক তথ্য: পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র দিপেন চাকমা!

জাহিদ হাসান

পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় সশস্ত্র সংগঠন সন্তু লারমা সমর্থিত জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) এক প্লাটুনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী দিপেন চাকমা ওরফে দীঘোল। ভারতের মিজোরামে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে তিনি বর্তমানে পাহাড়ে নিয়মিত সামরিক অপারেশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এই সশস্ত্র কমান্ডারের কিছু তথ্য ও ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, দিপেন চাকমা ছাত্রজীবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ‘প্রথম আলো বন্ধুসভা’র একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এর আগে পাহাড়ে সক্রিয় অন্য একটি সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) প্রধান নাথান বমও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন একই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে ট্র্যাক রেকর্ডে উঠে আসে।

পদ্ধতিগত রিক্রুটমেন্ট ও অর্থায়নের অভিযোগ

পার্বত্য অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সশস্ত্র দলগুলোতে ভেড়ানোর পেছনে একটি নির্দিষ্ট ‘প্যাটার্ন’ বা ছক কাজ করে। অভিযোগ রয়েছে, প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের বাছাই করে। পরবর্তীতে বিশেষ গ্রুমিংয়ের মাধ্যমে তাদের দেশের প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি, কোটা আন্দোলনসহ বিভিন্ন অধিকারভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় রাখার মাধ্যমে তাদের একটি অংশকে পরবর্তীতে জেএসএস, ইউপিডিএফ কিংবা কেএনএফ-এর মতো সশস্ত্র বা রাজনৈতিক শাখার জন্য রিক্রুট করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় কিছু প্রভাবশালী গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার পরোক্ষ পলিসি সাপোর্ট ও ফাণ্ডিংয়ের ভূমিকা নিয়ে নেটিজেন ও বিশ্লেষকদের মাঝে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।

অপারেশনের অনুমতি মেলেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে

নিরাপত্তা সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি দিপেন চাকমাসহ দুই ডজন পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসীর একটি তালিকা তৈরি করে পাহাড়ে ‘জরুরি যৌথ অপারেশনের’ অনুমতি চেয়েছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কয়েকজন নীতি-নির্ধারক উপদেষ্টার অবস্থান এবং ঢাকাস্থ জাতিসংঘের (ইউএন) মানবাধিকার কার্যালয়ের আপত্তির মুখে সেনাবাহিনী সেই বিশেষ অপারেশন পরিচালনা করতে পারেনি।

উল্টো পাহাড়ে সক্রিয় আঞ্চলিক দলগুলোকে রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়ার এক ধরণের তোড়জোড় শুরু হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের তীব্র তোপের মুখে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র স্পষ্ট দ্বিমুখী নীতি প্রদর্শন করছে। দেশের মূল ভূখণ্ডে কোনো গোষ্ঠী সামান্য তৎপরতা দেখালে তাদের কঠোর হস্তে দমন ও ‘জম্বি’ বা ‘জঙ্গি’ তকমা দেওয়া হয়; অথচ দেশের বুক চিরে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে যারা পাহাড়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে তুলে নিচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে রহস্যজনক নমনীয়তা বা ‘ক্লিনচিট’ দেওয়া হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় কোনো প্রকার ভূ-রাজনৈতিক বা এনজিও এজেন্ডার কাছে মাথা নত না করে অবিলম্বে দিপেন চাকমাসহ সকল সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর সেনা অভিযান পরিচালনার দাবি উঠেছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *