বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ মোস্তাফা কামাল আর নেই: ক্রীড়াঙ্গনে শোক
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জের কৃতি সন্তান, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক পরিচালক ও বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ মোস্তাফা কামাল আজ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভোর ৬.৩০ মিনিটের সময় বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮৫ বছর। তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক পরিচয় ও জানাজা
জনাব মোস্তাফা কামাল কোম্পানীগঞ্জের বিশিষ্ট শিক্ষা ও ক্রীড়াবিদ মরহুম খালেদ মোমিন স্যারের আপন ছোট ভাই এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহর আপন চাচা। মরহুমের নামাজে জানাজা আজ বাদ জোহর শান্তিনগরস্থ ইস্টার্ন প্লাস মার্কেটের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁকে রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
বর্ণাঢ্য ক্রীড়া জীবন
মোস্তফা কামাল ১৯৪২ সালের ৩১ ডিসেম্বর কোম্পানীগঞ্জের রামপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৮ সালে আন্তঃজেলা ফুটবলে নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত জগন্নাথ কলেজের এবং পরবর্তীতে আজাদ স্পোর্টিং ও মোহামেডান ক্লাবের ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৬৭, ৬৮ ও ৬৯ সালে মোহামেডান ক্লাব ভলিবলে টানা তিনবার শিরোপা লাভ করে। ১৯৬৩ থেকে ৭০ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তান ভলিবল দলের খেলোয়াড় ছিলেন।
জাতীয় দলের প্রশিক্ষক ও অর্জন
তিনি ১৯৭৪ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত মোট ৭ বার বাংলাদেশ জাতীয় ভলিবল দলের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৬৬ ও ৬৮ সালে পাকিস্তান ভলিবল জাতীয় দলের প্রশিক্ষক ছিলেন। তিনি ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানের সেরা ভলিবল খেলোয়াড় এবং ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশের সেরা প্রশিক্ষক পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৮ সালে সোনালী অতীত ক্লাব এবং ২০১২ সালে ঢাকাস্থ কোম্পানীগঞ্জ সমিতি থেকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন।
শোক প্রকাশ
মরহুমের মৃত্যুতে কোম্পানীগঞ্জবাসী ও বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন গভীর শোকাহত। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং দোয়া করছি মহান আল্লাহপাক মরহুমকে জান্নাতবাসী করুন, আমিন।
