কোম্পানীগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি; আতঙ্কে পরিবার, সুদূর প্রবাসে পিতার আহাজারি
মোহাম্মাদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে একটি প্রবাসী পরিবারে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ জুন দিবাগত গভীর রাতে (২৬ জুন) উপজেলার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চরকাঁকড়া কলাবাগান এলাকার ‘হাসান মনজিল’ নামের বাড়িতে এই চুরির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
জানালার পাল্লা খুলে চোরের হানা
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে দূর পরবাসে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলেছিলেন ওই প্রবাসী। তাঁর উপার্জনের অর্থে নির্মিত ‘হাসান মনজিল’ ছিল পুরো পরিবারের স্বপ্ন ও নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু এক রাতের ব্যবধানেই সেই স্বস্তির ভিটায় নেমে এসেছে অন্ধকার।
অভিযোগ রয়েছে, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বাড়ির জানালার পাল্লা খুলে অত্যন্ত সুকৌশলে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা ঘরে থাকা মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে অনায়াসে চম্পট দেয়। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকলেও চোরচক্রের এই চতুর তৎপরতা টের পাননি।
পরিবারে আতঙ্ক ও প্রবাসে পিতার অসহায়ত্ব
এই চুরির ঘটনার পর থেকে পুরো পরিবারটি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঘরে থাকা ছোট ছোট শিশু সন্তানরা চরম আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে সামান্য কোনো শব্দ পেলেই শিশুরা ভয়ে জেগে উঠছে এবং কান্নাকাটি করছে।
বর্তমানে প্রবাসে অবস্থানরত গৃহকর্তা প্রতিদিন ভিডিওকলের মাধ্যমে স্ত্রীর কান্না এবং সন্তানদের এই আতঙ্কিত অবস্থা দেখছেন, যা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। দূর পরবাস থেকে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে ওই প্রবাসী বলেন—
”বিদেশে দিনরাত এক করে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে টাকা পাঠিয়ে পরিবারের সব প্রয়োজন মেটাতে পারলেও, এই চরম সংকটের মুহূর্তে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে একটু সাহস জোগানোর সুযোগ পাচ্ছি না। দূর পরবাসে থেকে নিজের সন্তানদের এই ভয় আর স্ত্রীর কান্না দেখার চেয়ে বড় কষ্ট একজন বাবার জন্য আর কিছু হতে পারে না।”
নজরদারি বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধের দাবি
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি নির্দিষ্ট পরিবারের ক্ষতি নয়; বরং দেশের অর্থনীতি সচল রাখা অসংখ্য প্রবাসী পরিবারের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অনুপস্থিতিতে তাদের পরিবারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারটি ইতিমধ্যে প্রশাসনের কাছে এই চুরির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি রাতের অন্ধকার দূর করতে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং প্রবাসী পরিবারের নিরাপত্তায় স্থানীয় জনসচেতনতা বৃদ্ধিরও আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রতিবেশীভিত্তিক সামাজিক নজরদারি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
