ফুলবাড়ীতে ছাত্রীদের বাল্যবিবাহের ঝুঁকি কমাতে স্কলারশিপ ও আইজিএ চেক বিতরণ
মোস্তাফিজার রহমান (জাহাঙ্গীর), কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ছাত্রীদের বাল্যবিবাহের ঝুঁকি কমিয়ে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এক বিশেষ স্কলারশিপ ও আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রমের (আইজিএ) চেক বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের মাঝে এই চেক হস্তান্তর করা হয়।
উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থা ও একশনএইড বাংলাদেশের উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘একশনএইড বাংলাদেশ’-এর অর্থায়ন ও সহযোগিতায় এবং স্থানীয় সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ‘উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থা’-র আয়োজনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংস্থাটির ‘গার্লস সাপোর্টার প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থার সমন্বয়কারী রবিউল ইসলামের সুচারু তত্ত্বাবধানে আয়োজিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস ছালাম।
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ
অনুষ্ঠানে ছাত্রীদের ঝরে পড়া রোধ ও অধিকার সুরক্ষায় সংহতি প্রকাশ করে আরও উপস্থিত ছিলেন:
- মজিবর রহমান, কমান্ডার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।
- আব্দুল আজিজ মজনু, সিনিয়র সাংবাদিক।
- মোস্তাফিজার রহমান, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা প্রেসক্লাব।
- মাহফুজার রহমান, সাধারণ সম্পাদক, ফুলবাড়ী রিপোর্টার্স ক্লাব।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্কলারশিপ ও আইজিএ আর্থিক সহযোগিতা প্রাপ্ত ৬০ জন নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ঝরে পড়া রোধ ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার তাগিদ
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বক্তারা নারী শিক্ষার প্রসার এবং বাল্যবিবাহের মরণছোবল থেকে কন্যাসন্তানদের রক্ষায় এই প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন—
“এ ধরনের প্রত্যক্ষ আর্থিক সহযোগিতা গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মেয়েশিশুদের শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্নে অব্যাহত রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ছাত্রীদের অকালে ঝরে পড়ার হার যেমন কমবে, তেমনই সমাজ থেকে বাল্যবিবাহের ঝুঁকিও বহুলাংশে হ্রাস পাবে।”
অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ পরামর্শ দিয়ে বক্তারা আরও বলেন:
“আইজিএ (Income Generating Activities)-এর আওতায় প্রাপ্ত অর্থটি কোনো অন্য খাতে ব্যয় না করে সঠিকভাবে আয়বর্ধনমূলক কাজে বিনিয়োগ করতে হবে। এর ফলে পরিবারের স্থায়ী আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ বহন করা সহজ করবে এবং তাদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথ সুগম হবে।”
অনুষ্ঠানের শেষভাগে অতিথিবৃন্দ উপকারভোগী ৬০ জন অভিভাবকের হাতে বৃত্তির টাকা ও ব্যবসার জন্য পুঁজির চেক তুলে দেন। এই সহযোগিতা পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন সুবিধাভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার।
