স্বেচ্ছাসেবক দলের ত্যাগী নেতা নাসির উদ্দিন পলাশের না বলা কথা

মো. রেজাউল ইসলাম

ছাত্রদলের তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক লড়াকু নাম নাসির উদ্দিন পলাশ। বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের ১ নং সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ত্যাগ, জেল-জুলুম আর হুলিয়া মাথায় নিয়ে লড়ে যাওয়া এই নেতার জীবনের না বলা কথাগুলো উঠে এসেছে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে।

তৃণমূল থেকে মহানগরের পথে

ভাটারা থানার খিলবাড়ির টেক ইউনিট ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে হাতেখড়ি নাসির উদ্দিন পলাশের। এরপর ওয়ার্ড ও ভাটারা থানা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। তৎকালীন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আলীর নজরে আসে তার সাংগঠনিক সক্ষমতা। পরবর্তীতে ইয়াসিন আলী স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্ব পেলে পলাশকে ভাটারা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্ব প্রদান করেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ভাটারা থানা স্বেচ্ছাসেবক দল একটি শক্তিশালী ইউনিটে রূপান্তরিত হয়।

জুলাই বিপ্লব ও সেই ভয়াল স্মৃতি

আন্দোলন-সংগ্রামে নাসির উদ্দিন পলাশের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। বিশেষ করে গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে পলাশ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “জুলাই আন্দোলনে আমার নিজের চোখের সামনে দুজন সহকর্মী নির্মমভাবে শহীদ হয়েছেন। সেই দৃশ্য এখনো আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।”

অর্ধেক জীবন কেটেছে পালিয়ে

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে দিনের পর দিন না খেয়ে, না ঘুমিয়ে পালিয়ে কাটাতে হয়েছে তাকে। পলাশ বলেন, “আমার জীবনের অর্ধেক সময়টাই কেটেছে পরিবার থেকে দূরে পালিয়ে থেকে। এমনকি স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ থাকাকালীনও তাকে দেখতে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। দলের জন্য এবং গণতন্ত্রের জন্য এভাবেই সংগ্রাম করে গেছি।”

আগামীর স্বপ্ন ও ৩১ দফা বাস্তবায়ন

নাসির উদ্দিন পলাশ বিগত দিনে নাসির উদ্দিন পিন্টু, হাবিবুন নবী খান সোহেল, এস এম জাহাঙ্গীর, ইয়াসিন আলী, এস এম জিলানী এবং রাজিব আহসান খানের মতো তুখোড় নেতাদের সাথে রাজনীতি করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আপসহীন চেতনাকে ধারণ করে তারেক রহমানের ঘোষিত ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়নে তিনি একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করে যেতে চান।

দলের হাইকমান্ডের প্রতি তার প্রত্যাশা, মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্ব পেলে তিনি তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইউনিটটিকে আরও সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। একজন ত্যাগী সৈনিক হিসেবে আগামীর রাজনৈতিক পথচলায় তিনি সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *