যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার: আগুনে পুড়িয়ে হত্যার সন্দেহ
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় নিখোঁজের চারদিন পর মো. খোকন (৩২) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত ও দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
নিখোঁজ ও মরদেহ উদ্ধার
নিহত মো. খোকন চাটখিল পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের হোসেন আলী পাটোয়ারী বাড়ির মো. ফারুক হোসেনের ছেলে। পেশায় তিনি একজন দিনমজুর ছিলেন। পুলিশ জানায়, রোববার (৫ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দৌলতপুর গ্রামের মন্ত্রীরপোল সংলগ্ন একটি ঝোপের মধ্যে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে চাটখিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোনকল পেয়ে খোকন বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ৪ এপ্রিল পরিবারের পক্ষ থেকে চাটখিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-১৯০) করা হয়েছিল। স্থানীয়দের ধারণা, দুর্বৃত্তরা খোকনকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে অন্য কোথাও হত্যা করার পর পরিচয় আড়াল করতে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে যায়।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “লাশটি আংশিক পোড়ানো ও অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘাতকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
এদিকে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
