সংবাদকর্মীদের সম্মানী নিয়ে টালবাহানা: নৈতিকতা ও আইনের লঙ্ঘন
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

গণমাধ্যম কর্মীদের ন্যায্য সম্মানী ও পারিশ্রমিক প্রদান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম, অবহেলা ও প্রতারণা বর্তমানে উদ্বেগজনক মাত্রা ধারণ করেছে। সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, কর্মী, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা সাংবাদিকদের সম্মানী প্রদানে গড়িমসি ও টালবাহানা করছেন। যা পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী।
পেশাগত মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক চার্টার
১৯৭১ সালে গৃহীত ‘এথেন্স চার্টার’ (Athens Charter of Journalists’ Ethics) অনুযায়ী, সংবাদকর্মীদের মানবিক মর্যাদা ও পেশাগত সম্মান রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। এই চার্টারে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, আর্থিক বঞ্চনা বা মানসিক চাপ সৃষ্টি করা অনৈতিক। সাংবাদিকতা কোনো দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়; বরং শ্রমের যথাযথ মূল্য পাওয়া একজন সাংবাদিকের ন্যায়সংগত অধিকার।
দেশের সংবিধান ও আইনের সুরক্ষা
বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন গণমাধ্যম কর্মীদের অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর:
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ-২০(১): শ্রমের মর্যাদা ও ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৩৯: মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বললেও এটি কাউকে অপমান বা মানহানি করার লাইসেন্স দেয় না।
- বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬: কাজ শেষে ইচ্ছাকৃতভাবে পারিশ্রমিক আটকে রাখা এই আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
- দণ্ডবিধি-১৮৬০: মানহানিকর বক্তব্য ও ভয়ভীতি প্রদর্শন (ধারা ৪৯৯, ৫০০ ও ৫০৬) ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য।
বিচক্ষণ অভিমত ও দ্বিমুখী আচরণ
সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা (পিআইবি) শিক্ষার্থী হিসেবে পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, যারা সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা চান, তারাই আবার কাজের মূল্য দিতে অনীহা দেখান—এটি চরম দ্বিচারিতা। পারিশ্রমিক না দিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করে চাপ সৃষ্টি করা স্পষ্টতই নৈতিক ও আইনগত লঙ্ঘন।
বাংলাদেশ সাংবাদিক পরিষদ (বাসাপ)-এর দাবি
বাংলাদেশ সাংবাদিক পরিষদ (বাসাপ) এর পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হয়েছে যে, গণমাধ্যম কর্মীদের সম্মানী প্রদানে স্বচ্ছতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিশেষে, রাষ্ট্র ও সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদমাধ্যমকে দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য হুমকি। গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি সম্মান এবং ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা সকলের নৈতিক, সামাজিক ও আইনগত দায়িত্ব।
