মাদারগঞ্জে জাল সার্টিফিকেটে ২১ বছর শিক্ষকতা ও বেতন উত্তোলন

আনিছুর রহমান আইয়ুব, জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে সহকারী কৃষি শিক্ষক হিসেবে চাকরি ও সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শাহাদাৎ হোসাইন (বাচ্চু) উপজেলার ৩ নং গুনারীতলা ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃত হাসান আলী মন্ডলের ছেলে এবং সাবেক ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা।

জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ ও প্রভাব বিস্তার

অভিযোগ অনুযায়ী, শাহাদাৎ হোসাইন কোনো কলেজে পড়াশোনা না করেই একটি নামী কলেজের নাম ব্যবহার করে জাল সার্টিফিকেট তৈরি করেন। এই জাল সনদের মাধ্যমেই ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বর তিনি নিশ্চিন্তপুর-কাতলামারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী কৃষি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি পরিবারের আরও ৬ জনকে একই বিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে চাকরি দেন বলে জানা গেছে।

শিক্ষা বোর্ডের তদন্তে ধরা পড়ল জালিয়াতি

বিগত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে (রোল নং ৫৯৩৫৩২, রেজি. নং ৩৯৫২২১) শাহাদাৎ হোসাইনের সার্টিফিকেট যাচাইয়ের জন্য আবেদন করা হয়। বোর্ডের যাচাই শেষে জানা যায়, উক্ত সার্টিফিকেটটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।

স্কুল ক্যাম্পাসে অবৈধ ব্যবসা ও স্থাপনা

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শাহাদাৎ হোসাইন বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী সোহাগকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এক কোণায় মুদি দোকান ও একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই কিন্ডারগার্টেন পরিচালনার মাধ্যমে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। ক্যাম্পাসে দোকান ও স্কুল থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় বিঘ্ন ঘটছে। এ বিষয়ে নৈশপ্রহরী সোহাগ জানান, তিনি দোকান দিয়েছেন এবং আগামী মাস থেকে ভাড়া হিসেবে ২০০ টাকা করে দেবেন।

প্রশাসনের কাছে আবেদন ও এলাকাবাসীর দাবি

জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গত ৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বরাবর সার্টিফিকেট যাচাই ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। তবে দীর্ঘদিনেও কার্যকর সুফল না পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ভুয়া শিক্ষকের নিয়োগের কাগজপত্র তদন্ত করে তার এমপিও বন্ধ এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *