ফুলবাড়ীতে ভুল প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা: কেন্দ্র সচিবসহ ৫ জন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, কারণ দর্শানোর নোটিশ
মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের মাঝে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ মোট ৫ জনকে পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সাথে দায়িত্বহীনতার অভিযোগে কেন্দ্র সচিব ও কলেজের অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ জন পরীক্ষার্থীকে পরবর্তীতে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দিয়ে সঠিক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণ ও কেন্দ্রে উত্তেজনা
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের অধীনে উপজেলার পাঁচটি কলেজের পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন। গত ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত ইসলামের ইতিহাস, ইতিহাস, ব্যবস্থাপনা ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালীন ইতিহাস বিভাগের ৮ নম্বর কক্ষে মোট ১৬ জন পরীক্ষার্থী আসন গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ৮ জন মানোন্নয়ন বা পুরোনো এবং ৮ জন চলতি বছরের নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিলেন।
পরীক্ষা শুরু হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষ পরিদর্শক নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের মাঝে ইতিহাস (বিষয় কোড-৩০৪) বিষয়ের ২০২৫ সালের পুরোনো প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরীক্ষার্থীরা সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি জানান এবং পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন। এতে কেন্দ্র প্রাঙ্গণে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ ভুল সংশোধন করে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কেন্দ্রের অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের পরীক্ষা শেষে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ জন শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বাড়িয়ে দিয়ে সঠিক প্রশ্নপত্রে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।
কঠোর পদক্ষেপ: কেন্দ্র সচিবসহ ৫ জন অব্যাহতির মুখে
পরীক্ষা কেন্দ্রে এমন গুরুতর অনিয়ম ও অবহেলার ঘটনা জানাজানি হলে তাৎক্ষণিক কঠোর পদক্ষেপ নেয় উপজেলা প্রশাসন। ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আক্তার কেন্দ্র সচিব ও কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াদুদ আলীকে পরীক্ষা কেন্দ্রের সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন এবং তাঁকে শোকজ নোটিশ জারি করেন।
এ ছাড়া ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণে দায়ী ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের দুই শিক্ষক ও কক্ষ পরিদর্শক—প্রভাষক কুদ্দুস আলী এবং আশিকা প্রেয়ারীকেও পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের মনোনীত দুই ইনভিজিলেটর (ট্যাগ অফিসার)—জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী হাসান আলী এবং সহকারী প্রোগ্রামার (আইসিটি) রফিকুল ইসলামকেও তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরীক্ষা কেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন রাখতে কলেজের উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান সরকার লিটুকে নতুন ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিব আসাদুজ্জামান সরকার লিটু জানান, “আমি ছুটিতে ছিলাম। শুনেছি ভুলবশত ইতিহাস বিভাগের পুরোনো প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। পরে অতিরিক্ত সময় দিয়ে সঠিকভাবে পরীক্ষা গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছে।”
অব্যাহতি পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ওয়াদুদ আলী বলেন, “আমার শারীরিক সমস্যার কারণে আমি পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছি।” তবে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান—
“বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হয়। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশে পরিচালনার স্বার্থে কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দায়ী দুইজন কক্ষ পরিদর্শক ও দুইজন ট্যাগ অফিসারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
