ময়মনসিংহে ইবতেদায়ী মাদ্রাসার গাছ কাটার পাঁয়তারা; বন্ধের দাবিতে ইউএনওর কাছে আবেদন

রাশিদ আহমেদ নিসর্গ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ৭নং চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের ‘টুমপাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা’-র নিজস্ব মালিকানাধীন ভূমিতে থাকা মূল্যবান গাছ কেটে ফেলার পাঁয়তারা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে একটি প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামাজিক ও আইনি সম্পদ বিনষ্টের এমন অপচেষ্টায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে।

​মাদ্রাসার সীমানার ভেতরের গাছগুলো কাটা বন্ধের আকুল আবেদন জানিয়ে গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সহকারী শিক্ষক আলহাজ্ব মোঃ বিল্লাল হোসেন।

প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও তাৎপর্য

​লিখিত আবেদনে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মোঃ বিল্লাল হোসেন জানান, ১৯৮২ সালে চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের নয়াপাড়া, টুমপাড়া ও দিঘলাপাড়াসহ স্থানীয় সর্বসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত আর্থিক ও জমি সহযোগিতায় ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় করে ওয়াকফ দলিলের মাধ্যমে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম একাডেমিক স্বীকৃতি (মঞ্জুরি) লাভ করে।

​প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মাদ্রাসাটিতে ১ম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে ৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণ করছে এবং উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে সরকারের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তকও বিতরণ করা হয়। সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড একাধিকবার স্বীকৃতি নবায়ন করেছে, যার বর্তমান মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে।

গাছ কাটার অপচেষ্টা ও শিক্ষার পরিবেশের ক্ষতি

​অভিযোগে বলা হয়, মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ২টি মেহগনি ও ২টি বিশাল কাঁঠাল গাছ রয়েছে। বহু বছরের পুরোনো এসব গাছ শুধু প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক সম্পদই নয়, বরং শিক্ষার পরিবেশের এক অপরিহার্য অংশ। প্রখর গ্রীষ্মে এই গাছগুলোর ছায়াই ক্লাসরুম ও খেলার মাঠকে সহনীয় রাখে, যেখানে কোমলমতি শিশুরা খেলাধুলা ও পড়াশোনা করে।

​কিন্তু সম্প্রতি এলাকার কতিপয় অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন মহলকে প্ররোচিত করে গাছগুলো কেটে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের (মসজিদের) কাজে ব্যবহার করার তোড়জোড় শুরু করেছে।

​এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠাতা বিল্লাল হোসেন বলেন—

​”একটি ধর্মীয় বা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে অন্য একটি বৈধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিনষ্ট করা কোনোভাবেই সমীচীন, ন্যায়সংগত বা আইনসম্মত হতে পারে না। এই গাছগুলো কেটে ফেলা হলে শ্রেণিকক্ষ সরাসরি তীব্র রোদের সম্মুখীন হবে, যা কোমলমতি শিশুদের পাঠদান ও সুস্থ শারীরিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।”

ইউএনওর বক্তব্য

​গাছ কাটার এই উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধ করে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকবৃন্দ।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আরিফুল ইসলাম জানান, ৭নং চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের টুমপাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার জমিতে অবস্থিত গাছ কাটার পাঁয়তারা চলছে মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি মানবিক, শিক্ষাগত ও আইনগত দিক বিবেচনা করে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *