জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতির মিলনমেলায় বসুরহাট পাঠাগারের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে প্রগতিশীল জ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ‘বসুরহাট পাঠাগার’-এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৫টায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বসুরহাট পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান।
তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করার আহ্বান
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল হাই সেলিম এবং বসুরহাট পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোশাররফ হোসেন।
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আমন্ত্রিত বক্তারা বলেন—
“একটি শিক্ষিত, সচেতন, প্রগতিশীল ও মানবিক সমাজ গঠনে পাঠাগারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যুগে যখন তরুণ সমাজ নানামুখী অপসংস্কৃতির ঝুঁকিতে রয়েছে, তখন যুবসমাজকে বইমুখী করা, সুস্থ জ্ঞানচর্চার পরিবেশ সৃষ্টি এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে এই পাঠাগারটি প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলেছে।”
বক্তারা বসুরহাট পাঠাগারের বিভিন্ন সামাজিক, সাহিত্যিক ও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আগামীতে এর পরিধি আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
বিশেষ সম্মাননা ও গুণীজন সংবর্ধনা

কমিটির কার্যক্রমকে গতিশীল করার প্রত্যয়ের পাশাপাশি অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বসুরহাট পাঠাগারের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক এবং নবনিযুক্ত যোগিদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি রাইসা ভূঞা-কে পাঠাগারের পক্ষ থেকে বিশেষ শুভেচ্ছা স্মারক ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ তাঁকে নতুন দায়িত্বের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং নারী শিক্ষার প্রসারে তাঁর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
উপস্থিতি ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বসুরহাট পাঠাগারের প্রধান উদ্যোক্তা মোঃ শাহাদাত হোসেন, বসুরহাট পৌরসভার বাজার পরিদর্শক করিমুল হক সাথী, পাঠাগারের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল্লাহ সোহাগসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
স্মরণীয় এই আলোচনা সভা শেষে পাঠাগারের উদ্যোগে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা চমৎকার সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে পাঠাগারের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুধীজন এবং বিপুলসংখ্যক সংস্কৃতিমনা মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বসুরহাট পাঠাগার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, মেধার বিকাশ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।
