খালেদা জিয়ার কবরে জনতার ঢল: নতুন বছরে জিয়ারত ও শ্রদ্ধা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

নতুন বছরের প্রথম প্রভাতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে ঢল নেমেছে হাজারো মানুষের। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে সমাধি এলাকা এক আবেগঘন পরিবেশে পরিণত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল থেকেই প্রিয় নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ফুলের তোড়া ও হৃদয়ের ভালোবাসা নিয়ে সমবেত হন তাঁরা।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা
সকাল থেকেই জিয়া উদ্যান ও সংসদ ভবনের আশপাশের এলাকায় র্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে। জানাজা ও দাফন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জনসাধারণের প্রবেশ সাময়িকভাবে সীমিত রাখা হয়। এর মধ্যে উদ্যানের ভেতর ও প্রবেশপথের কাঁচের ব্রিজ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে দেখা গেছে কর্মীদের। বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে উদ্যানের গেট সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে মানুষের ভিড় ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে।
সাধারণ মানুষের আবেগ
খামারবাড়ি থেকে আসা সাবেক স্কুল শিক্ষিকা নিলুফার সুলতানা তাঁর আবেগ চেপে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, “খুব অল্প বয়সে স্বামী হারানোর পর দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি যে সংগ্রাম করেছেন, তা অতুলনীয়। গত ১৫ বছর তিনি দেশের মানুষের জন্য যে কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, দেশবাসী তা চিরকাল মনে রাখবে। তিনি কেবল নেত্রী নন, ছিলেন এ দেশের মানুষের অভিভাবক।”
দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের ভিড়
বেগম খালেদা জিয়ার জন্মস্থান দিনাজপুর ও পঞ্চগড় থেকেও অনেকে ছুটে এসেছেন তাঁর কবরের পাশে। পঞ্চগড় থেকে আসা বিএনপি নেতা জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু বলেন, “শেষবারের মতো প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখে যেতে এসেছি। তাঁর ত্যাগ ও আদর্শ সবার জন্য শিক্ষণীয়।” দিনাজপুর থেকে আসা গোলাম সরওয়ার মিলন জানান, দেশনেত্রীর জীবন সংগ্রাম আমাদের আগামীর পথ চলার শক্তি জোগাবে।
দোয়া ও মোনাজাত
সমাধিস্থলে আগতদের কেউ কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছিলেন, আবার কেউ কেউ দলবেঁধে কোরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাতে অংশ নিচ্ছিলেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের এই স্রোত আরও বাড়তে থাকে। উপস্থিত জনতা কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রীকে নয়, বরং ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে পরিচিত এক জননেত্রীকে হারানোর শোকে মুহ্যমান ছিলেন।
