খালিয়াজুরীতে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৮৩১ কৃষকের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ
মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার হাওর বেষ্টিত খালিয়াজুরী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ৮৯টি হাওরে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে আকস্মিক ফসলডুবিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবং নেত্রকোনা-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুড়ি) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের সার্বিক সহযোগিতায় বিনামূল্যে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) বেলা ১১ ঘটিকার সময় খালিয়াজুড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
৩ মাস মেয়াদি বিশেষ মানবিক সহায়তা
উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতে প্রাপ্ত এই বিশেষ বরাদ্দ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মোট ৭,৮৩১ জন তালিকাভুক্ত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মাঝে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে। মানবিক সহায়তার আওতায় প্রতি কৃষককে:
- নগদ অর্থ: ৩ মাস মেয়াদি মোট ৩,০০০ টাকা।
- বিনামূল্যে চাল: প্রতি মাসে ১৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে।
ত্রাণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও অতিথিবৃন্দ
খালিয়াজুড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আয়োজিত এই ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খালিয়াজুরীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অলিদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান তালুকদার কেষ্টু।
এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রীতি ভূষণ দাস, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফুল মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক তালুকদার আরিফ, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. এরশাদ মিয়া, সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের ব্যক্তিগত সহকারী মো. জহির আহমেদ জিকু এবং সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আবু ইসহাক। অনুষ্ঠানে পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বিপুল সংখ্যক ভুক্তভোগী কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
দলমত নির্বিশেষে সহায়তার নির্দেশ ও আশ্বাস
নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সংসদ সদস্য অত্যন্ত আন্তরিক ও উদ্বীগ্ন। কোনো প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যেন এই সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের দোরগোড়ায় এই সহায়তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
উদ্বোধনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অলিদুজ্জামান কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেন:
“সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরের প্রায় প্রতিটি কৃষকই কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রথম পর্যায়ে আমরা একটি বড় অংশকে এই সহায়তার আওতায় এনেছি। তবে যারা এই তালিকায় এখনো আসতে পারেননি, তাদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককেই সরকারি সহযোগিতার আওতায় আনা হবে।”
প্রাকৃতিক দুর্যোগে সোনালী ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষকেরা যথাসময়ে এই নগদ অর্থ ও চাল পেয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার এক নতুন আলো দেখছেন এবং সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
