কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের বিরুদ্ধে সিএনজি চালকদের ধর্মঘট: ভোগান্তি
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রেখেছেন চালকরা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে উপজেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সড়কে কোনো সিএনজি চলাচল না করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
চালকদের অভিযোগ ও দাবি
সিএনজি চালকদের মূল অভিযোগ হলো, প্রায় প্রতি রাতেই পুলিশের টহল কার্যক্রমে তাদের গাড়ি বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু টহলে ব্যবহৃত গাড়ির গ্যাসের খরচ পুলিশ পরিশোধ করে না, যা চালকদের নিজেদের পকেট থেকে দিতে হয়। এছাড়া সারারাত ডিউটি করলেও চালকদের জন্য কোনো খাবার বা নাস্তার ব্যবস্থা রাখা হয় না বলে তারা অভিযোগ করেন।
বিক্ষুব্ধ এক চালক বলেন, “আমরা পুলিশকে সহযোগিতা করি, কিন্তু এর বিনিময়ে আমাদের আর্থিক লোকসান হচ্ছে। আমাদের নিজস্ব গ্যাস খরচ করে সারারাত গাড়ি চালাই, অথচ এক কাপ চাও কপালে জোটে না। এই জুলুম বন্ধ করতে হবে।”
চালকদের প্রধান দাবিগুলো হলো: ১. রাতের টহল কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের খরচ তাৎক্ষণিক পরিশোধ করতে হবে। ২. টহলকালীন চালকদের খাবারের যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
যাত্রী ভোগান্তি
সকাল থেকে সিএনজি চলাচল বন্ধ থাকায় উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ বিভিন্ন স্ট্যান্ডে সারিবদ্ধভাবে গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ এবং হাসপাতালে আসা রোগীরা বিপাকে পড়েছেন। অনেককে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে বিকল্প বাহনে বাড়তি ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, চালকদের দাবিগুলো মানবিক ও যৌক্তিক। পুলিশের মতো দায়িত্বশীল বাহিনীর মাধ্যমে সাধারণ চালকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া কাম্য নয়। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করে জনভোগান্তি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
