কোম্পানীগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কঠোর নির্দেশ
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সংঘটিত আলোচিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করেছেন নোয়াখালী জেলার নবাগত পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) বিকেল ৪টার দিকে তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন ওই ডাকাতির ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং চলমান তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন গভীর রাতে এলাকাটিতে সংঘটিত একটি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ ও তদন্ত পর্যালোচনা
পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত হন। একই সঙ্গে তিনি তদন্ত কার্যক্রমের বর্তমান অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কঠোর হুঁশিয়ারি ও জনসহযোগিতার আহ্বান
ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের হুঁশিয়ারি দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই গোয়েন্দা নজরদারি এবং তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনার প্রতিটি তথ্য-упат্ত গুরুত্বসহকারে যাচাই-বাছাই করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এ সময় তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন—
“সমাজে সংঘটিত যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, সন্দেহজনক চলাফেরা কিংবা অপরাধীদের সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তা দ্রুত পুলিশকে অবহিত করুন। জনগণের সঠিক তথ্য ও সহযোগিতাই অপরাধ দমনে পুলিশের সবচেয়ে কার্যকর শক্তি।”
তিনি আরও যোগ করেন, নোয়াখালী জেলা পুলিশ জনগণের জানমাল রক্ষায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। জেলার প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জেলা পুলিশের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।
স্বস্তি ও আস্থা ফিরবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা
নবাগত পুলিশ সুপারের এমন তৎপরতায় স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, তাঁর এই সরেজমিন পরিদর্শন এবং সরাসরি তদন্ত তদারকি ডাকাতির ঘটনাটির দ্রুত ও কার্যকর তদন্তে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে আতঙ্কিত এলাকাবাসীর মধ্যে দ্রুত স্বস্তি ও পুলিশের প্রতি আস্থা ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
