কুড়িগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে ৩ গ্রামের মানুষ

মোস্তাফিজার রহমান (জাহাঙ্গীর), কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় নীলকমল নদীর ওপর নির্মিত একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো এখন স্থানীয়দের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। উপজেলার কুটিচন্দ্রখানা ও সাবেক ছিটমহলের হাবিবপুরসহ তিন গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।

সাঁকোর বর্তমান চিত্র

সরেজমিনে দেখা যায়, ৩০ মিটার দীর্ঘ এই বাঁশের সাঁকোটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করায় বাঁশের চরাট ভেঙে গিয়ে কোথাও কোথাও বড় বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সাঁকোটি চরম পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, যা চলাচলের অযোগ্য হয়ে দাঁড়ায়। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা।

ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান হাবিব ও আব্দুল মালেক জানান, এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটিই তাঁদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। সাঁকো থেকে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে মানুষকে। বিশেষ করে জরুরি কোনো অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া এই সাঁকো দিয়ে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী অনিক ও আশিক জানায়, প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে তাঁদের স্কুল-কলেজে যেতে হয়। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় তাড়া করে বেড়ায়।

চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের বক্তব্য

ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন ও রশিদ হারুন জানান, “বাঁশের সাঁকোটি সত্যিই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মেরামতের বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।”

উপজেলা প্রকৌশলী মামুনুর রহমান এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই স্থানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।

দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ কমাতে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *