১৫ বিজিবির মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইয়াবা ও মাদক জব্দ
মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) পরিচালিত পৃথক তিনটি মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইয়াবা, গাঁজা এবং ইস্কাফ সিরাপ জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি’র দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানের অংশ হিসেবে গত ৭ জুলাই (২০২৬ খ্রি.) অনন্তপুর, গোড়কমন্ডল ও দৈখাওয়া বিওপির পৃথক তিনটি বিশেষ টহলদল এই সফল অভিযান পরিচালনা করে।
তিনটি পয়েন্টে বিজিবির আকস্মিক অভিযান
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চোরকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালানের চেষ্টা করছে—এমন বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি বিশেষ তৎপরতা শুরু করে। সেই অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই রাত ৩টা ২০ মিনিটে অনন্তপুর বিওপির আওতাধীন নাগরাজ এলাকায়, দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে গোড়কমন্ডল বিওপির আওতাধীন পূর্বটারী (থানা: ফুলবাড়ী, জেলা: কুড়িগ্রাম) এবং ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে দৈখাওয়া বিওপির আওতাধীন পূর্ব আমঝোল (থানা: হাতীবান্ধা, জেলা: লালমনিরহাট) এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে বিজিবি টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মাদকদ্রব্য ফেলে রেখে দ্রুত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।

জব্দকৃত মাদক ও আর্থিক মূল্য
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে চোরাকারবারীদের ফেলে যাওয়া ১ হাজার ৯৯৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা, ৭ দশমিক ৭ কেজি গাঁজা এবং ১০২ বোতল ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত মাদকের আর্থিক মূল্য:
- ভারতীয় ইয়াবা: ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা
- গাঁজা: ২৬ হাজার ৯৫০ টাকা
- ইস্কাফ সিরাপ: ৪০ হাজার ৮০০ টাকা
উদ্ধারকৃত এসব মাদকের সর্বমোট সিজার মূল্য ৬ লাখ ৬৬ হাজার ২৫০ টাকা। এই মাদক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি আপসহীন
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন—
“দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান, মাদক পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইনের যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
