শিক্ষার মানোন্নয়নে গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জেলা প্রশাসকের

ময়মনসিংহ

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে গতানুগতিক মানসিকতা ও প্রথাগত দায়িত্ব পালনের বাইরে গিয়ে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের আত্মপর্যালোচনা এবং কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান

​তিনি বলেছেন, “শুধু ভালো ফলাফল, জিপিএ-৫ কিংবা বৃত্তি অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার মান নির্ধারণ করা যায় না। শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, বড়দের প্রতি সম্মান, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং বাস্তব জীবনে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করার সক্ষমতা তৈরি করাই মানসম্মত শিক্ষার মূল ভিত্তি।”

​আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহ শহরের এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ আয়োজনে ‘প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষণ ও প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রধান শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মৌলিক দুর্বলতা ও আত্মসমালোচনার ওপর জোর

​বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের কম উপস্থিতি এবং মৌলিক বিষয়ে পিছিয়ে থাকার চিত্র তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন—

​”কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী থাকলেও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কম থাকা এবং সাধারণ গণিতের শতকরা হারের মতো মৌলিক বিষয় আয়ত্ত করতে না পারা কেবল শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা নয়। এটি শিক্ষক, প্রতিষ্ঠানপ্রধান এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত সবার জন্য গভীরভাবে আত্মসমালোচনার বিষয়।”

পরিমাপযোগ্য সূচক ও পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি

​শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর নজরদারির গুরুত্ব উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, মনিটরিংয়ের মূল উদ্দেশ্য কেবল কে উপস্থিত বা অনুপস্থিত তা দেখা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা দূর করা। কোনো শ্রেণিতে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী মৌলিক বিষয় না বুঝলে শিক্ষককে নির্দিষ্ট সময়ের লক্ষ্য বেঁধে দিতে হবে এবং পুনরায় মূল্যায়নের মাধ্যমে অগ্রগতি পরিমাপ করতে হবে।

​একসঙ্গে সব সমস্যার পেছনে না ছুটে উপস্থিতির হার কিংবা নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির মতো পরিমাপযোগ্য ছোট ছোট সূচক নির্ধারণ করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

ভয় দেখিয়ে নয়, প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে রোল মডেল হতে হবে

​প্রধান শিক্ষকদের প্রশাসনিক নেতৃত্বের ধরন সম্পর্কে মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে কঠোর প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলে একজন গতিশীল নেতা ও রোল মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে। ভয় দেখিয়ে বা শাস্তির মাধ্যমে নেতৃত্ব দেওয়া যায় না; বরং সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিতি এবং নিজ দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতার মাধ্যমে শিক্ষকদের সামনে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

​পাশাপাশি শিক্ষার সাথে খেলাধুলা, সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তিসহ সহশিক্ষা কার্যক্রমের ব্যাপ্তি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

আলোচাক ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ

​ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন:

  • লুৎফুন নাহার — অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), ময়মনসিংহ।
  • মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর — সুপারিনটেনডেন্ট, ময়মনসিংহ প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই)।

​উক্ত মতবিনিময় সভায় ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অংশ নেন। তাঁরা ক্ষেত্রপর্যায়ে পাঠদান, শ্রেণি ব্যবস্থাপনা এবং ভৌত অবকাঠামোগত নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা মুক্ত আলোচনায় তুলে ধরেন।