মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার হাওড়বেষ্টিত খালিয়াজুড়ীতে তীব্র তাপদাহের মধ্যে টানা ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষেই এক শিশু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে খালিয়াজুড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীর পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
অসুস্থ শিশু শিক্ষার্থীর নাম তুষ্ট চন্দ্র বর্মন (৮)। সে খালিয়াজুড়ি গ্রামের নয়া হাটির সুরঞ্জন চন্দ্র বর্মন ও তুলসি রাণী বর্মনের ছেলে এবং খালিয়াজুড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র (রোল নম্বর-০৭)।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ক্লাস চলাকালীন সকালের দিকে টানা ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। হাওড়াঞ্চলের গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ক্লাস করার সময় শিশু তুষ্ট হঠাৎ অসুস্থ ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে স্থানীয় অভিভাবক মোঃ মঈনুল ইসলাম তালুকদার রিকন এবং শিশুটির মা তুলসি রাণী বর্মন দ্রুত বিদ্যালয়ে এসে তাকে খালিয়াজুড়ি উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ বর্মন, সহকারী শিক্ষক সোনিয়া নাসরিন ও মনি মঞ্জুষা দেব রায় সাথে ছিলেন।
কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু রায়হান। তিনি জানান—
”বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকের সাথে কথা বলেছি। চিকিৎসক জানিয়েছেন শিশুটি এখন শংকামুক্ত রয়েছে। স্বজনদের আশ্বস্ত করা হয়েছে এবং শিশুটি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করছি।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খালিয়াজুড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অলিদুজ্জামান জানান—
”হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জেনেছি শিশুটির অবস্থা বর্তমানে ভালো। তাছাড়া ভবিষ্যতে যেন ক্লাস চলাকালীন সময়ে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে বিদ্যালয় চলাকালে বিদ্যুৎ সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য পল্লী বিদ্যুতের এজিএম জিল্লুর রহমানের সাথে কথা বলেছি।”
এ বিষয়ে খালিয়াজুড়ি বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
