মাদারগঞ্জে ‘হাওয়াই রোড খরকা ঝিল’ অবরুদ্ধের মুখে, বন্ধ হতে পারে নির্মল বাতাস উপভোগ
আনিছুর রহমান আইয়ুব, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে উপজেলা চত্বর সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী ‘হাওয়াই রোড খরকা ঝিল’ এলাকায় ভ্রমণপিপাসু ও সাধারণ মানুষের নির্মল বাতাস উপভোগ করার সুযোগ হয়তো চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে। ঝিলের চারপাশ ঘিরে একের পর এক স্থায়ী স্থাপনা ও বহুতল ভবন নির্মাণের ফলে প্রকৃতির এই উন্মুক্ত স্থানটি একটি বদ্ধ বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বিল থেকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি: ৩০ বছরের ব্যবধান
স্থানীয় প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগেও এই হাওয়াই রোডের ব্রিজের দক্ষিণ পাশে ছিল প্রমত্তা খরকা বিলের মধ্যভাগ। কিন্তু কালের বিবর্তনে এবং যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে সেসব ভরাট জায়গার একটি বড় অংশ এখন নাকি লোকজনের সিএস (CS) ও আরওআর (ROR) ভুক্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। ফলে ব্যক্তিমালিকানার অজুহাতে ঝিলের চারপাশ গিলে খাচ্ছে একের পর এক স্থাপনা।
প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকা ও বহুতল ভবন নির্মাণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে খরকা ঝিল ঘেঁষে একটি পাকা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হলে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসে সরকারি নির্দেশনায় তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে ঘর নির্মাণ বন্ধ রাখার সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত নির্দেশনা জারি করা হয়নি।
কিন্তু অত্যন্ত রহস্যজনক কারণে সম্প্রতি সেখানে আবারও নতুন করে ভবন নির্মাণের অনুমতি মিলেছে বলে ভবন ও দোকান মালিক পক্ষ দাবি করছে। বর্তমানে সেখানে তিন তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে বিশাল পাকা ভবন নির্মাণের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। শুধু এই ভবনই নয়, এর আশেপাশের খালি জায়গাগুলোতেও টিন, কাঠ ও স্টিল দিয়ে বড় বড় স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে একসময়ের উন্মুক্ত বাতাস চলাচলের জায়গাটি এখন চারদিক থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে।
উদ্বিগ্ন সচেতন মহল ও ভ্রমণপিপাসুদের আকুল আবেদন
মাদারগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষ ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এই হাওয়াই রোড খরকা ঝিল ছিল ক্লান্তি দূর করার অন্যতম এক প্রশান্তির জায়গা। বিকেলে একটু খোলা হাওয়া আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন এখানে শত শত মানুষ ভিড় জমান।
এলাকার আপামর জনসাধারণ ও পরিবেশবাদী সচেতন মহলের আশঙ্কা, এভাবে অবাধে স্থাপনা নির্মাণ চলতে থাকলে মাদারগঞ্জের এই ফুসফুসখ্যাত স্থানটি খুব দ্রুতই তার সৌন্দর্য হারাবে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের বিনোদনের স্বার্থে এই জলাশয় ও এর আশপাশ এলাকা অবৈধ দখলমুক্ত করতে এবং অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ বন্ধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
