জুলাই জাতীয় সনদে নারীর বিষয় উপেক্ষিত, নারীবিহীন এই সনদ গ্রহণযোগ্য নয়: বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

‘নারীর কণ্ঠে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা। আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে।ছবি

“জুলাই জাতীয় সনদে নারীর বিষয় উপেক্ষিত হয়েছে। নারীবিহীন এই জুলাই সনদ গ্রহণযোগ্য নয়।” আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘নারীর কণ্ঠে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গণভোটের জন্য ৪৮টি প্রস্তাব আছে, এত প্রস্তাব পড়ে জনগণ কোনটায় ‘হ্যাঁ–না’ ভোট দেবেন, সেটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জটিলতার সম্মুখীন হতে পারে। বক্তারা বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের গুরুত্ব সহজভাবে বোঝালে মানুষ অবশ্যই বুঝবে, কোথায় ‘হ্যাঁ–না’ ভোট দিতে হবে।

নারী কমিশন প্রধানের উদ্বেগ

আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্ন্তবর্তী সরকার গঠিত নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হক তাঁর তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন:

“জুলাই সনদের পুরো প্রক্রিয়া নারীবিবর্জিত। যতটা না ব্যথিত হয়েছি, বিষয়টি তার চেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ও উদ্বেগে ফেলেছে। এটা কিসের লক্ষণ, দেশ কোন দিকে যাচ্ছে? জুলাই সনদে নারীদের উপেক্ষা করা হয়েছে। তাই এই সনদ গ্রহণ করি না। জুলাই সনদ হলো কি হলো না, সেটা আর আমাদের ব্যাপার না।”

তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে রোকেয়া হলের মেয়েরা প্রথম প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল বের করেছিলেন। তাঁদের পরে আর কোথাও রাখা হলো না। নারীবিষয়ক কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা নিয়ে গালিগালাজ করা হলো, হেনস্তা করা হলো। অথচ এর বিরুদ্ধে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে কোনো আওয়াজ করা হলো না। তিনি ৪৮টি বিষয়ে কীভাবে গণভোট হবে, সেটা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন।

নারীর দাবি ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির প্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, জুলাই সনদ হয়েছে নারীদের বাদ দিয়ে। এর আগে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় নারীদের রাখা হয়নি।

  • সংরক্ষিত আসন: জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন ৫০টি থেকে বাড়িয়ে ১০০টি করার দাবি ছিল।
  • মনোনয়ন: সরাসরি নির্বাচনে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি ছিল। রাজনৈতিক দলগুলো সেটাকে শেষ পর্যন্ত ৫ শতাংশে এসে নামিয়েছে।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, এই জেন-জিদের এখন ‘অপরাধী’ করে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জুলাই সনদ যদি আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে তরুণদের এই অপরাধী করার চেষ্টা আদালত পর্যন্ত যাবে। তিনি বলেন, এনসিপি শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বলে আসছে গণপরিষদ নির্বাচন হচ্ছে বাংলাদেশকে উত্তরণের একমাত্র পথ।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন হবে। ২০২৫–এ এসে দলটি বলছে, সেই বাস্তবতা নেই। নারীর জন্য সরাসরি মনোনয়ন মাত্র ৫ শতাংশে সম্মত হয়েছে।

দাবি ও রূপরেখা

অনুষ্ঠানে মূল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। এতে বলা হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে যে আইনি দলিল জারি করা হবে, তা যেন একটি ‘আদেশ’ আকারে হয় এবং এতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা স্বাক্ষর করবেন।

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব কাজী জেসিন জুলাই সনদকে নারীবিহীন বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নারীদের অনলাইনে ঘায়েল করা হচ্ছে এবং গণভোটে এতগুলো বিষয়ে ভোটাররা নিজের সিদ্ধান্ত অনুসারে ভোট দেবেন কি না, সেটা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব হুমায়রা নূর বলেন, “আমাদের অভিজ্ঞতা বলে যে সহজভাবে বোঝালে মানুষ অবশ্যই বুঝবে, কোথায় ‘হ্যাঁ-না’ ভোট দিতে হবে।”

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *