বিটিভিতে আবারও শামসুল সিন্ডিকেটের রাজত্ব: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ভাঙিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) আবারও শামসুল আলমের নেতৃত্বাধীন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনামলে প্রভাবশালী সচিবদের ছত্রছায়ায় বিটিভি নিয়ন্ত্রণকারী এই কর্মকর্তা ৫ আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে ভোল পাল্টে এখন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে যুক্ত হয়ে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ভোল পাল্টে নতুন রাজত্ব

অনুসন্ধানে জানা যায়, শামসুল আলম গত সরকারের আমলে সাবেক সচিব মেজবাহ উদ্দিনের প্রভাবে বিটিভি নিয়ন্ত্রণ করতেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজেকে জামায়াত ও সাবেক শিবিরকর্মী পরিচয় দিয়ে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস টিমে প্রবেশ করেন। তৎকালীন বিটিভি জিএম নুরুল আজম পবনের আশীর্বাদে বার্তা শাখায় কর্মরত হয়েও তিনি প্রোগ্রাম ম্যানেজারের দায়িত্ব নেন এবং বিটিভির শিল্পী সম্মানী বাজেটে ব্যাপক হরিলুট চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগ

শামসুল আলমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কাছে পাঠানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। নুরুল আজম পবন দুর্নীতির তদন্তে ধরা পড়লেও শামসুল আলম কৌশলে পার পেয়ে যান। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিটে যুক্ত হয়ে বিটিভির ওয়েবসাইটে অবৈধভাবে নিজের নাম ‘বার্তা সম্পাদক’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ফিল্ড রিপোর্টিংয়ের অভিজ্ঞতা না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্টগুলো তিনি নিজেই করছেন, যা নিয়ে বিটিভির ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন উঠেছে।

ছাত্র আন্দোলন দমনে ভূমিকার নেপথ্যে

বিস্ময়কর তথ্য হলো, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে এবং সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী এ আরাফাতের নির্দেশে মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়ানোর জন্য গঠিত ৭ সদস্যের কমিটির প্রধান ছিলেন এই শামসুল আলম (স্মারক নম্বর-১৫.৫৪.৩০২৫.০২৫.১৮.০০২.২২.১৫৭)। ছাত্র হত্যার মদতদাতা হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে কীভাবে স্থান পেলেন, তা নিয়ে খোদ জুলাই যোদ্ধাদের মাঝেও চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অবৈধ সম্পদ ও ক্ষমতার দাপট

একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও ঢাকার আফতাবনগরে নিজস্ব ফ্ল্যাট এবং মোহাম্মদপুরে আলিশান বাসায় শামসুল আলমের বসবাস তাঁর আয়ের উৎস নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। এছাড়া শেখ হাসিনার সাবেক উপ-প্রেস সচিব সাখওয়াত মুনের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের বিষয়টিও বিটিভি সংশ্লিষ্টদের কাছে ওপেন সিক্রেট। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সদস্য মুন্সী ফরিদুজ্জামানকে পরিচালক (বার্তা) পদে ফেরানোর জন্য তিনি ২০ লাখ টাকার লেনদেনেও জড়িয়েছেন।

বিটিভি সংশ্লিষ্টদের দাবি, শামসুল আলমের মতো বিতর্কিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির কারণে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তথা দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে বিটিভিকে মুক্ত করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *