নেত্রকোনায় শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণ: অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক অবশেষে র্যাবের জালে ধরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোনা

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘ আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরকে (৩০) অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। বুধবার (৬ মে ২০২৬) ভোররাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের সংবাদ সম্মেলন
বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর বাইপাসস্থ র্যাব-১৪ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মহিবুল হক গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আমানুল্লাহ গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আসছিল। র্যাবের ছায়াতদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য না মিললেও ঘটনার সাথে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত চলছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
সূত্রমতে, অভিযুক্ত আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর মদন উপজেলার হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদরাসারই ছাত্রী। অভিযোগ রয়েছে, মাদরাসা সংলগ্ন মসজিদের বারান্দা ঝাড়ু দেওয়ার সময় শিশুটিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি। এর ফলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।
অভিযুক্তের বক্তব্য
গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত শিক্ষক দাবি করেছেন, তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িত নন। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তা ইশতিয়াক, নাজমুলসহ ময়মনসিংহে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্তকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
