কৃষকের আয় ও ঝুঁকি কমাতে বিকল্প ফসল ব্যবস্থার পরামর্শ সার্ক কৃষি কেন্দ্রের
নিজস্ব প্রতিবেদক

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও কৃষকদের জীবিকা সুরক্ষায় দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল বিকল্প ফসল ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সার্ক কৃষি কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) সার্ক কৃষি কেন্দ্রের আয়োজনে এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের দেড় শতাধিক বিশেষজ্ঞ ও অংশীজন এই পরামর্শ দেন।
প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিতেই মুক্তি
ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ। তিনি আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে কৃষিকে লাভজনক করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “জিআইএস (GIS) ও রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি নির্ভুল কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে। ড্রোন ও সেন্সর ব্যবহারের মাধ্যমে পানি ও সারের অপচয় কমিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের জন্য আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি, যা তাদের স্থানভিত্তিক সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। এছাড়া খামার থেকে ভোক্তা পর্যন্ত শক্তিশালী বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
কৃষকদের বহুমুখী চ্যালেঞ্জ
ভারতের আইসিএআর–আইআইএফএসআর-এর সিনিয়র বিজ্ঞানী ড. মেরাজ আলম আনসারি কৃষকদের বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খরা, অতিরিক্ত তাপ ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি বাজারের অস্থিতিশীল মূল্য ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কৃষকদের বড় চ্যালেঞ্জ। খণ্ডিত জমি ও সনাতন কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তে যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমেই এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান
ওয়েবিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (ক্রপস) ড. সিকান্দার খান তানভীর। অনুষ্ঠান শেষে সমাপনী বক্তব্যে নেপালের সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কৃষি খাতের চ্যালেঞ্জগুলো অভিন্ন। তাই জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং নীতিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি যৌথ কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
