অতিবৃষ্টিতে ডুবছে বোরো ধান: পানিতে দাঁড়িয়েই খাবার খাচ্ছেন কৃষক
মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার হাওরবেষ্টিত খালিয়াজুড়ি উপজেলায় অতিবৃষ্টির কারণে বোরো ধানের মাঠ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে ফসল রক্ষায় মরিয়া কৃষকেরা ধান কাটার ফাঁকে হাওরের পানিতে দাঁড়িয়েই খাবার খাচ্ছেন। ৩রা মে ২০২৬, রবিবার সকালে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চায়ার হাওরে কৃষকদের এমন মানবেতর জীবনসংগ্রামের চিত্র দেখা গেছে।
জলাবদ্ধতায় বিপন্ন সোনালী স্বপ্ন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একাধারে টানা বৃষ্টির কারণে চায়ার হাওরের শত শত হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। রোববার সকালে ধান কাটার সময় কৃষক আবু কাসেম আক্ষেপ করে বলেন, “বৃষ্টির পানিতে ধান তলিয়ে যাচ্ছে, শ্রমিকের মজুরিও অনেক বেশি। ধানের দাম কম হওয়ায় এবার আমাদের খরচের আসল টাকাই উঠবে না। এত কষ্ট আর সহ্য হয় না।” তিনি এই সমস্যার কথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকেও জানিয়েছেন।
কৃষি দপ্তরের ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান
খালিয়াজুড়ি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৮৯টি হাওরে প্রায় ২০,২৩২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০,৯২৩ হেক্টর (৫৪%) জমির ধান কাটা সম্পন্ন হলেও বাকি জমি নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না। জলাবদ্ধতার কারণে ৪,৫৮৫ হেক্টর জমির ধান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২,৭৮০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এখনো প্রায় ৪,৭২৪ হেক্টর জমির ধান কাটা বাকি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন, “বৃষ্টি থেমে রোদ হলে অল্প দিনের মধ্যেই বাকি ধান কাটা শেষ হবে ইনশাআল্লাহ।”
শ্রমিক সংকট ও আকাশছোঁয়া মজুরি
কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: শামীম মড়ল জানান, এলাকায় ধান কাটা শ্রমিকের চরম সংকট চলছে। গত চার দিনের অতিবৃষ্টিতে জনপ্রতি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দাঁড়িয়েছে ১৫০০ টাকা, সাথে দুই বেলা খাবার। সময়ের অভাবে শ্রমিকেরা অনেক সময় হাওরের পানিতে দাঁড়িয়েই দুপুরের খাবার খেয়ে নিচ্ছেন।
শ্রমিক সর্দার কাসেম আলী জানান, ১০ জন শ্রমিক মিলে প্রতিদিন সকালে ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ করে এক একর জমির ধান কাটতে পারেন। মজুরি ও খাবারের পেছনে মালিকের বিপুল ব্যয় হচ্ছে।
মূল্য বৃদ্ধির দাবি
কৃষকদের এই চরম দুর্ভোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৃষ্ণপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: আবুল কালাম এবং উপজেলা জামায়াতের আমীর মো: ইসমাইল হোসেন। তাঁরা জানান, একদিকে আবহাওয়ার কারণে শ্রমিকের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে ধানের বাজার মূল্য মাত্র ৬০০-৭০০ টাকা হওয়ায় কৃষকেরা সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে ধানের মূল্য বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
