সেনবাগে মাদকের আসর প্রতিবাদের নির্মম পরিণতি: নানাবাড়িতে খুন স্কুলছাত্র ফাহিম, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মাদকের আড্ডা ও বেচাকেনায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসায়ীদের বর্বরোচিত হামলায় নানাবাড়িতে বেড়াতে আসা এক স্কুলছাত্র নির্মমভাবে খুন হয়েছে। এ ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আরও অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

গত বুধবার (১০ জুন ২০login/২৬) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবিসিংহপুর গ্রামের আঞ্জু মিয়াযী বাড়িতে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত আরাফাত হোসেন ওরফে ফাহিম (১৫) পার্শ্ববর্তী বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে এবং স্থানীয় পৌর হাজীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র ছিল। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সে সেনবাগের দেবিসিংহপুর গ্রামে তার নানাবাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।

প্রতিবাদ করায় সংঘবদ্ধ হামলা

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, নবীপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হারুন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ফাহিমের নানাবাড়ির পাশের রাস্তা এবং আঞ্জু মিয়াযী বাড়ির আশপাশে মাদকের আড্ডা ও প্রকাশ্য বেচাকেনা চালিয়ে আসছিল। এতে ওই এলাকার পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ায় সম্প্রতি ফাহিমের মামা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাদের সেখানে আড্ডা দিতে নিষেধ করেন এবং কর্মকাণ্ড বন্ধের অনুরোধ জানান।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে আবারও একই স্থানে হারুন ও তার দলবল মাদকের আসর বসালে বাড়ির লোকজন তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কিছুক্ষণ পরই হারুনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র মাদক কারবারি ও সেবনকারী লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আঞ্জু মিয়াযী বাড়িতে আকস্মিক হামলা চালায়।

“হামলাকারীরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। তাদের হাত থেকে পরিবারকে বাঁচাতে গিয়ে ফাহিম ও শাকিবসহ কয়েকজন মারাত্মক জখম হন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন।”

হাসপাতাল থেকে প্রধান আসামি আটক

হামলার সময় পাল্টা প্রতিরোধে অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী হারুনও সামান্য আহত হয়। পরে সে নিজেকে আড়াল করতে এবং চিকিৎসার অজুহাতে কৌশলে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হতে গেলে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করে।

মামলা দায়ের ও পুলিশের বক্তব্য

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মা পারভিন আক্তার বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে সেনবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন:

“মাদক সেবন ও আড্ডায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত এই সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত হারুনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এদিকে ঈদের আনন্দঘন মুহূর্তে নানাবাড়িতে এসে ফাহিমের এমন অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার চিহ্নিত মাদক স্পটগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত সকল আসামির দ্রুত ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *