ইউসিবির অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ, রেকর্ড প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে ৪৩তম এজিএম সম্পন্ন

অর্থনীতি ডেস্ক

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)-এর ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শেয়ারহোল্ডারদের সর্বসম্মত অনুমোদনে ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই পদক্ষেপ ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং পুঁজিভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) সকাল ৯টায় রাজধানীর কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে এই বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শরীফ জহীর।

ব্যাংকিং খাতের গড় প্রবৃদ্ধির দ্বিগুণেরও বেশি আমানত প্রবৃদ্ধি

এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে জানানো হয়, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ২০২৫ সালে ইউসিবি ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

  • রেকর্ড আমানত প্রবৃদ্ধি: এই সময়ে ব্যাংকটি তার ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৩ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের গড় প্রবৃদ্ধির (১১ শতাংশ) তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
  • আমানতের পরিমাণ: এর ফলে ব্যাংকের মোট আমানত প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮,৩৯৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
  • নতুন গ্রাহক: একই অর্থবছর ব্যাংকটির সাথে নতুন করে প্রায় ৬ লাখ ৭৮ হাজার গ্রাহক হিসাব (অ্যাকাউন্ট) যুক্ত হয়েছে।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার

দক্ষ ব্যালান্স শিট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইউসিবি তার ঋণ-আমানত অনুপাত (ADR) ৯১.৩ শতাংশ থেকে ৮৩ শতাংশে নামিয়ে এনে তারল্য অবস্থানকে অভাবনীয়ভাবে শক্তিশালী করেছে। ঋণ ও অগ্রিম খাতে ৮ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি খেলাপি বা রাইট-অফ ঋণ থেকে প্রায় ১১৪ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় তিনগুণ।

নতুন নিয়ন্ত্রক নীতিমালার কারণে এক পর্যায়ে ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১৯ শতাংশে পৌঁছালেও, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধারের বিশেষ তৎপরতায় তা ৪ শতাংশ কমিয়ে ১৫.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

ইসলামিক ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে বড় লাফ

ইউসিবির ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রমেও গত বছর অসাধারণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে; যেখানে আমানত ১৬৩ শতাংশ এবং বিনিয়োগ ১৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে ইউসিবির এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মুনাফার মুখ দেখেছে। সুশৃঙ্খল ব্যয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অন্যান্য পরিচালন ব্যয় প্রায় ৯৭ কোটি টাকা হ্রাস করা হয়েছে, যেখানে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে মাত্র ৩ শতাংশ।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে অনন্য উচ্চতা

প্রযুক্তিগত খাতে দেশের প্রথম মাইক্রোসার্ভিসভিত্তিক ‘ওপেন এপিআই ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম’ এবং আধুনিক ‘ইউসিবি ওয়ান অ্যাপ’ চালুর মাধ্যমে ইউসিবি তার ডিজিটাল সক্ষমতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এর সুফল হিসেবে বর্তমানে ব্যাংকের মোট লেনদেনের প্রায় ৬৫ শতাংশই ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

সভায় উপস্থিত শেয়ারহোল্ডাররা ইউসিবির সাম্প্রতিক এই চোখধাঁধানো ব্যবসায়িক অগ্রগতি ও সুশাসনে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভা শেষে ইউসিবির কোম্পানি সেক্রেটারি তানভীর এ সিদ্দিকী এফসিএ শেয়ারহোল্ডার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সহযোগিতা ও আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানান। পরে চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সুশাসন জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সম্প্রসারণ এবং শক্তিশালী মূলধন কাঠামোর মাধ্যমে একটি টেকসই ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে এবারের বার্ষিক সাধারণ সভা শেষ হয়।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *