সময়মতো অফিসে আসেন না ইফা’র ডিডি, বিনামূল্যে গেস্ট রুমে বসবাস
জাহিদ হাসান

নেত্রকোনা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) উপ-পরিচালক শাহ আলমের বিরুদ্ধে সরকারি নিয়ম অমান্য করে বিনা ছুটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, অফিসের গেস্ট রুমে বসবাস করেও সরকারি বাড়িভাড়া উত্তোলন এবং জনসম্মুখে ধূমপানসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৩ মে ২০২৬) সরেজমিনে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
অফিসে অনুপস্থিতি ও স্টাফদের ভাষ্য
সরকারি নিয়ম মোতাবেক সকাল ৯টায় অফিসে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও রোববার দুপুরে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত সংবাদকর্মী অফিসে অবস্থান করলেও তাঁর দেখা মেলেনি এবং একাধিকবার মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অফিস সহকারী মো. আল মামুন ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক স্টাফের মতে:
- উপ-পরিচালক শাহ আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে যাতায়াত করেন এবং প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
- রোববার তিনি সাধারণত অফিসে ফিরলেও প্রায়ই দেরি করে আসেন।
- অফিসে থাকলেও তিনি অধিকাংশ সময় তৃতীয় তলার গেস্ট রুমে অবস্থান করেন এবং অফিশিয়াল প্রয়োজনে ফোন দিলে তবেই দ্বিতীয় তলায় অফিস কক্ষে আসেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. হাবেজ আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, উপ-পরিচালক শাহ আলম রোববারের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক ছুটি নেননি।
আর্থিক অনিয়ম ও গেস্ট রুমের অপব্যবহার
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সরকারি বাসস্থানের অপব্যবহার নিয়ে। জানা গেছে, শাহ আলম গত ৬-৭ মাস ধরে অফিসের গেস্ট রুমে বিনামূল্যে বসবাস করছেন। অথচ গেস্ট রুমে বিনা ভাড়ায় থেকেও তিনি সরকারি বাড়িভাড়া বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়মিত উত্তোলন করছেন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, নবম গ্রেডে তাঁর মূল বেতন ৪৫ হাজার টাকা এবং বাড়িভাড়া ১৬ হাজার টাকাসহ তিনি মাসিক প্রায় ৬৮ হাজার টাকা বেতন পান। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়ে অতিথিদের জন্য নির্ধারিত রুমে দিনের পর দিন বসবাস করার বিষয়টি বিভাগীয় পরিচালককেও অবাক করেছে।
অশোভন আচরণ ও ধূমপান
শুধু আর্থিক অনিয়মই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ধূমপানের মতো অশোভন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। অফিসের এক কর্মচারী জানান, তিনি অফিস চলাকালীন ভেতরে ও বাইরে এবং স্থানীয় আনন্দবাজারের চায়ের স্টলে বসে প্রকাশ্যে ধূমপান করেন।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
সার্বিক বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. হাবেজ আহমেদকে অবহিত করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। বিনা ছুটিতে অনুপস্থিতি এবং গেস্ট রুমে থেকে বাড়িভাড়া তোলার বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
