সমবায় সমিতির টাকা উদ্ধারের দাবি: মাদারগঞ্জে ২য় দিনেও উপজেলা পরিষদ ঘেরাও, প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির
আনিছুর রহমান আইয়ুব, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিভিন্ন সমবায় সমিতিতে রাখা আমানতের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উপজেলা পরিষদ কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। সোমবার দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধ কর্মসূচির কারণে পরিষদের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাঁদের এই অবস্থান ধর্মঘট চলবে।
ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অবরুদ্ধ আন্দোলন
‘মাদারগঞ্জে বিভিন্ন সমবায় সমিতিতে আমানতকৃত অর্থ উদ্ধার আন্দোলন কমিটি’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে কয়েক শ ভুক্তভোগী গ্রাহক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। সোমবার দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এসে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে কার্যালয় অবরুদ্ধ করেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছর ধরে তাঁরা কষ্টের জমানো টাকা ফেরতের আসায় স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। মাঝখানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কিছুদিন আন্দোলন বন্ধ থাকলেও, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এবার আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
আন্দোলন কমিটির সংগঠক মো. মাফিজুর রহমান বলেন—
“টাকা উদ্ধারের দাবিতে আমরা অতীতে পুরো উপজেলা অবরুদ্ধ করাসহ হেন কোনো কর্মসূচি নেই যা করিনি। মাঝখানে রাজনৈতিক কারণে কয়েক মাস আন্দোলন স্থগিত ছিল। আজ থেকে আমরা আবারও রাস্তায় নেমেছি। যত দিন পর্যন্ত সব গ্রাহক টাকা ফেরতের শতভাগ নিশ্চয়তা না পাবেন, তত দিন আন্দোলন চলবে।”
হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ
জেলা সমবায় কার্যালয়ের অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, মাদারগঞ্জের বিভিন্ন সমবায় সমিতিতে গ্রাহকদের প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা জমা ছিল। তবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত অংকটি এর চেয়ে অনেক বেশি।
ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, এই অঞ্চলের ২৩টি সমিতির মধ্যে— আল-আকাবা, শতদল, স্বদেশ, নবদীপ, হলিটার্গেট এবং রংধনু অন্যতম। শুধুমাত্র এই ৬টি সমিতির কাছেই গ্রাহকদের ৭০০ কোটি টাকার বেশি আমানত আটকে আছে। আর পুরো মাদারগঞ্জ উপজেলার হিসাব ধরলে সমবায় সমিতিগুলোতে গ্রাহকদের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা আটকা পড়েছে। মাদারগঞ্জ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ী এবং জামালপুর সদর উপজেলারও কয়েক হাজার গ্রাহক এই সমবায় সমিতিগুলোর কারণে চরম দেউলিয়া ও নিঃস্ব অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
আন্দোলন কমিটির মুখ্য সংগঠক শিবলুল বারী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেও কোনো পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিকার বা আশ্বাসের বাণী পাচ্ছেন না সাধারণ গ্রাহকেরা।
সমাধানের খোঁজে প্রশাসন
মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ কার্যালয় ঘেরাও ও অচলাবস্থার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন—
“আমি সম্প্রতি এই উপজেলায় যোগদান করেছি। ফলে পূর্ববর্তী সমবায় সমিতি সংক্রান্ত অনেক জটিল বিষয়ের সব তথ্য এখনো আমার বিস্তারিত জানা নেই। আন্দোলনকারী গ্রাহকেরা আজ ভবনের প্রধান ফটকে অবস্থান নেওয়ায় দাপ্তরিক কাজে বিঘ্ন ঘটছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে ইতিমধ্যে আন্দোলন কমিটির নেতৃবৃন্দকে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছে। তাঁদের সাথে বসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত একটি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
