ভূরুঙ্গামারীতে মরিচ ক্ষেতের আড়ালে মাদক চাষ, ১০ ফুটের বিশাল গাঁজার গাছ জব্দ
মোস্তাফিজার রহমান (জাহাঙ্গীর), কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মরিচ ক্ষেতের আড়ালে অভিনব কায়দায় চাষ করা প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল গাঁজার গাছ জব্দ করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি বটতলা এলাকার দুর্গম চরে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাছটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
মরিচ ক্ষেতের আড়ালে ২ বছর ধরে লালন-পালন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণ তিলাই খোঁচাবাড়ি গ্রামের কৃষক ইউসুফ মিয়া দুধকুমার নদের পাড়ে জেগে ওঠা চরে তাঁর মরিচ ক্ষেতের ভেতরে গোপনে এই গাঁজার গাছটি রোপণ করেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে লালন-পালন করায় গাছটি প্রায় ১০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছায়। তবে গাছটিতে ফুল আসার আগেই তা পুলিশের গোয়েন্দা নজরে পড়ে যায়। শনিবার বিকেলে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মরিচ ক্ষেতের মাঝখান থেকে বিশালাকৃতির এই গাছটি উপড়ে জব্দ করা হয়।

চরাঞ্চলে তল্লাশি ও আইনি পদক্ষেপ
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ওই চরাঞ্চলের আর কোথাও এভাবে লুকিয়ে গাঁজা বা অন্য কোনো মাদকের চাষ করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে এলাকায় চিরুনি তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক অভিযুক্ত কৃষক ইউসুফ মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রলোভনে মাদক চাষ ও পুলিশের হুঁশিয়ারি
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের এএসপি মুনতাসির মামুন মুন জানান—
“চরাঞ্চলের কিছু দরিদ্র কৃষক অধিক মুনাফার আশায় মাদক কারবারিদের প্ররোচনা ও প্রলোভনে পড়ে গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য চাষে জড়িয়ে পড়ছেন। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে পুরোপুরি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছি। চরাঞ্চলসহ পুরো উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত কঠোর অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
