ফুলবাড়ী সীমান্তে ১৫ বিজিবির বিশেষ অভিযান; ১৬.৫ কেজি গাঁজা ও ১৪৯ বোতল ইস্কাপ সিরাপ জব্দ
মোস্তাফিজার রহমান (জাহাঙ্গীর), কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে মাদকবিরোধী এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গাঁজা এবং নিষিদ্ধ ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করেছে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)। সোমবার (২৯ জুন) ভোর ৪টার দিকে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় এই সফল অভিযান চালানো হয়।
বিজিবির ধাওয়া খেয়ে মাদক ফেলে পালালো চোরাকারবারিরা
বিজিবি সূত্র জানায়, লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের কাছে একটি বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্য আসে যে, একটি চোরাকারবারী চক্র সীমান্ত পথ ব্যবহার করে ভারত থেকে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের চেষ্টা করছে। এই তথ্যের আলোকে ১৫ বিজিবির অধীনস্থ শিমুলবাড়ী বিওপির (বর্ডার আউটপোস্ট) একটি বিশেষ টহলদল উপজেলার বানিয়াটারী এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়।
ভোর রাতে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মালামালসহ সীমান্তের দিকে আসতে দেখে বিজিবি টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করে এবং ধাওয়া দেয়। বিজিবির আকস্মিক উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা লুণ্ঠিত মালামাল ও সঙ্গে থাকা মাদকদ্রব্যের বস্তা ফেলে রেখে রাতের অন্ধকারের সুযোগে সীমান্ত অতিক্রম করে দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।
লক্ষাধিক টাকার মাদক উদ্ধার
পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালিয়ে চোরাকারবারিদের ফেলে যাওয়া বস্তা থেকে ১৬ দশমিক ৫ কেজি ভারতীয় গাঁজা এবং ১৪৯ বোতল আমদানিরুদ্ধ ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করতে সক্ষম হয়।

১৫ বিজিবির অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
- জব্দকৃত গাঁজার আনুমানিক সিজার মূল্য: ৫৬,৭৫০ টাকা।
- ইস্কাপ সিরাপের আনুমানিক সিজার মূল্য: ৫৯,৬০০ টাকা।
- উদ্ধারকৃত মাদকের সর্বমোট সিজার মূল্য: ১,১৭,৩৫০ টাকা।
বিজিবি জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত পলাতক চোরাকারবারীদের সঠিক পরিচয় শনাক্ত করতে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
অভিযানের বিষয়ে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বিজিবির কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন—
“দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান, মাদক পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইনের যেকোনো দেশবিরোধী অপচেষ্টা সীমান্তে কঠোর হস্তে প্রতিহত করা হবে। আমাদের দেশের যুবসমাজকে মাদকের মরণছোবল থেকে মুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, সীমান্তের স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল ব্যবস্থা বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বিজিবির এই ধরনের ঝটিকা অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
