দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী আসায় ভাটা
দেশে ২১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৩২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন।

ফাইল ছবি:
মোশতাক আহমেদ
,ঢাকা
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪: ০০
মোশতাক আহমেদ
,ঢাকা
দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একসময় বেশ ভালো সংখ্যায় বিদেশি শিক্ষার্থী পড়তে আসতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই প্রবণতায় ভাটা পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য বলছে, টানা তিন বছর ধরে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। সেটি সরকারি-বেসরকারি দুই ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়েই।
ইউজিসির ধারণা, এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে—প্রথমত, আগে যেসব দেশ থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা আসতেন, সেসব দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ছে কিংবা তাঁরা অন্যান্য দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাচ্ছেন। আবার সার্বিকভাবে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান ও পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন আছে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করে সংস্থাটি।
দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একসময় বেশ ভালো সংখ্যায় বিদেশি শিক্ষার্থী পড়তে আসতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই প্রবণতায় ভাটা পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য বলছে, টানা তিন বছর ধরে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। সেটি সরকারি-বেসরকারি দুই ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়েই।
ইউজিসির ধারণা, এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে—প্রথমত, আগে যেসব দেশ থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা আসতেন, সেসব দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ছে কিংবা তাঁরা অন্যান্য দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাচ্ছেন। আবার সার্বিকভাবে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান ও পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন আছে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করে সংস্থাটি।
প্রতিবছর ইউজিসি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে শিক্ষার বিভিন্ন রকমের তথ্য সংগ্রহ করে। ইউজিসি সর্বশেষ যে তথ্য সংগ্রহ করেছে, তাতে দেখা যায়, ২০২৩ সালে দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ছিল ৫৩টির (মোট বিশ্ববিদ্যালয় ৬১টি)। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ১১৪টি (পরে আরও কয়েকটির অনুমোদন হয়, কয়েকটিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি)। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে (অধিভুক্ত কলেজ ও মাদ্রাসাসহ) মোট শিক্ষার্থী ৪৮ লাখ ২১ হাজারের বেশি।
ইউজিসির তথ্য বলছে, দেশের ২১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী পড়েন। এগুলোতে ২০২৩ সালে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিলেন ৬৩৩ জন। এর আগের বছর ছিল ৬৭০ জন। মানে এক বছরের ব্যবধানে ৩৭ জন বিদেশি শিক্ষার্থী কমেছে। আর ২০২১ সালে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিলেন ৬৭৭ জন।
বর্তমানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পড়েন দিনাজপুরে অবস্থিত হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখানে বিদেশি শিক্ষার্থী আছে ১১২ জন। ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন ৯১ জন। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পরিবর্তিত নাম) পড়েন ৮৭ জন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন ৬৬ জন।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্বে) অধ্যাপক মো. আবু হাসান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সীমান্ত কাছাকাছি হওয়ায় যাতায়াত–সুবিধার কারণে ভারত, নেপাল ও ভুটানের শিক্ষার্থীরা সহজেই তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারেন। এ ছাড়া নাইজেরিয়া, সোমালিয়াসহ কয়েকটি দেশ থেকেও কিছু শিক্ষার্থী আসেন। এসব দেশ থেকে অনেক বছর ধরেই কিছু শিক্ষার্থী আসছেন, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
অপর দিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এখন ৩২টিতে বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছেন। ২০২১ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিলেন ১ হাজার ৬০৪ জন, ২০২২ সালে ১ হাজার ২৮৭ জন, আর ২০২৩ সালে এসে তা নেমেছে ৮২৬ জনে। এক বছরের ব্যবধানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৬১ জন বিদেশি শিক্ষার্থী কমেছে।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী কমতে থাকার কারণ জানতে চাইলে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ভাষাগত সমস্যাটা বড়। পাশাপাশি থাকা ও ব্যবস্থাপনাগত সমস্যাটাকে বড় সমস্যা। তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেশি শিক্ষার্থীদের জন্যই পর্যাপ্ত উপযোগী ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়নি। ভালো থাকার সুবিধা, ভালো গ্রন্থাগারসহ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে পরিপূর্ণ ব্যবস্থা থাকা দরকার, সেই পরিবেশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেই। যেখানে নিজস্ব শিক্ষার্থীদের জন্যই এই আয়োজন করা যায়নি, সেখানে বিদেশি শিক্ষার্থী তো দূরের পথ।
অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান বলেন, এখানে ইউজিসি তো সেই অর্থে স্বাধীন নয়। যদি শিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত বাজেট না দেওয়া হয়, তাহলে এসব জায়গা নিয়ে কাজ করা কঠিন। সংকটের জায়গা হলো উচ্চশিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী যতটুকু বাজেট বরাদ্দ দেওয়া দরকার, ততটুকু দেওয়া হচ্ছে না।
