ঘোড়াঘাটে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন; লক্ষ্যমাত্রা ১৩,১৪১ শিশু

শাহ আলম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাটে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টায় ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে এক শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে দিনব্যাপী এই বিশেষ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন।

১৩ হাজারেরও বেশি শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা

ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং অন্ধত্বসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে অত্র উপজেলার মোট ৯৭টি নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে এবার সর্বমোট ১৩ হাজার ১৪১ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ক্যাম্পেইনের নিয়ম অনুযায়ী, শিশুদের বয়সভেদে দুই রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে:

  • ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু: এদেরকে দেওয়া হচ্ছে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল।
  • ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু: এদেরকে দেওয়া হচ্ছে একটি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল।

শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় ভিটামিন ‘এ’ এর গুরুত্ব

উদ্বোধনী কর্মসূচিতে উপস্থিত চিকিৎসা কর্মকর্তা ও বক্তারা ভিটামিন ‘এ’ এর প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা তুলে ধরে বলেন—

“শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টি নিশ্চিত করা, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা এবং অপুষ্টিজনিত নানাবিধ শারীরিক জটিলতা ও অন্ধত্ব কমাতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি সুস্থ ও সবল আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে সকল সচেতন অভিভাবকের উচিত নিজ নিজ শিশুকে নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করা।”

উপস্থিত কর্মকর্তা ও সুধীজন

ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. প্রিয়াঙ্ক কুন্ডু, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আহসান হাবীব, পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাজা, স্বাস্থ্য পরিদর্শক বিমল চক্রবর্তী এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মো. আজিজুর রহমান

এছাড়াও ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং টিকাদান কাজে নিয়োজিত মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা এই সময় উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনে প্রতিটি কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *