কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন কলমাকান্দার সন্তান এজমল হোসেন পাইলট

মো. ফখরুল আলম খসরু, কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

জাতীয়তাবাদী যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক’ পদে স্থান পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক জ্যেষ্ঠ (১ নম্বর) সহ-সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা এজমল হোসেন পাইলট। রাজপথের এই লড়াকু নেতা নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁর নিজ এলাকা নেত্রকোনার কলমাকান্দাসহ পুরো জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ, উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে তৃণমূলের অসংখ্য নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী শুভেচ্ছাবার্তা দিচ্ছেন।

১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সাংগঠনিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে যুবদলের এই কমিটির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এর আগে গত বুধবার (৩ জুন) আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী যুবদলের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন দেয় দলের হাইকমান্ড। আর এই হেভিওয়েট কমিটিতেই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এজমল হোসেন পাইলটকে।

তৃণমূল থেকে জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান

এজমল হোসেন পাইলটের পৈতৃক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলা সদরের চত্রংপুর গ্রামে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে অত্যন্ত সক্রিয় ও ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তৃণমূল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত একজন দক্ষ, সুপরিচিত ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ জিয়ার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে স্বৈরাচারবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

পেশাদার ও ত্যাগী এই নেতার রাজনৈতিক জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বসমূহ:

  • ২০০৪ সাল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল বা শহীদ মহসিন হল ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন।
  • ২০১০ সাল: কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন।
  • ২০১২ সাল: কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত।
  • ২০Links১৪ সাল: কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ১ নম্বর (সিনিয়র) সহ-সভাপতি হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় এজমল হোসেন পাইলটকে দলীয় নীতি ও আদর্শের জন্য একাধিকবার রাজনৈতিক মামলা, গ্রেফতার ও দীর্ঘমেয়াদী কারাবরণসহ নানা ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবুও দলীয় কর্মসূচির প্রতি অবিচল থেকে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর এই ত্যাগী ভূমিকার কারণেই তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সর্বোচ্চ আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করেন জেলা ও উপজেলার স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

সংসদ নির্বাচনে বিশেষ ভূমিকা

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নেত্রকোনা-১ (call-কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে লড়াই করা বিএনপির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট (Chief Election Agent) হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ওই নির্বাচনে সুশৃঙ্খল ও দূরদর্শী নির্বাচনী কৌশলের মাধ্যমে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সম্মানিত ডেপুটি স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

দলের হাইকমান্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এজমল হোসেন পাইলট বলেন:

“জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাকে মনোনীত করায় আমি আমাদের সর্বস্তরের নেতা, দেশনায়ক ও বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের প্রতি গভীর ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে যুবদলের নবনির্বাচিত সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের প্রতিও ধন্যবাদ জানাই। দেশ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান লড়াইয়ে যুবদলকে আরও শক্তিশালী করতে আমি জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে কাজ করে যাবো।”

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *