I don’t mind, I am assessing ব্যারিস্টার ফুয়াদ বাংলাদেশের মেগাস্টার
শেখ মেহেদী হাসান নাদিম

শরীরে বিদ্ধ বুলেটের ক্ষত শুকিয়ে যায়, কিন্তু প্রকাশ্য দিবালোকে একজন দেশপ্রেমিকের আত্মসম্মানে যে ‘অদৃশ্য আঘাত’ হানা হয়, তার দহন আগ্নেয়গিরির লাভাস্রোতের চেয়েও তীব্র। গত ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫—বরিশালের বাবুগঞ্জে মীরগঞ্জ সেতু এলাকায় যা ঘটল, তা কেবল ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের ওপর হামলা নয়; এটি ছিল সদ্য স্বাধীন হওয়া এই জনপদের বিবেকের ওপর এক নির্মম চাবুক।
একজন আইনজীবী এবং জাতীয় নেতাকে যখন পুলিশের উপস্থিতিতেই লাঞ্ছিত হতে হয়, তখন রাষ্ট্রযন্ত্রের পাজরে কতটা জং ধরেছে, তা বুঝতে আর বাকি থাকে না।
তবে এই পৈশাচিক দৃশ্য দেখে সচেতন নাগরিক সমাজ ভেঙে পড়েনি, হাহাকার করেনি। বরং এক হিমশীতল ধৈর্য নিয়ে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
I don’t mind, I am assessing
আমরা মন খারাপ করছি না, আমরা ‘পরিমাপ’ করছি। আমরা মাপছি—জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী এই রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের দণ্ডটি ঠিক কতটা নতজানু হয়েছে। আমরা দেখছি, যারা দেশপ্রেমের বুলি আওড়ায়, তাদের মুখোশের আড়ালে কতটা ফ্যাসিবাদ লুকিয়ে আছে।
ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিচারহীনতার যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা রীতিমতো ভয়াবহ। ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় একটি রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় এই হামলা হয়েছে এবং তিনি একে ‘ফ্যাসিবাদী আচরণ’ বলে অভিহিত করেছেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, যখন তিনি ন্যায়বিচার চাইতে থানায় গেলেন, তখন পুলিশ মামলা নেওয়া তো দূরের কথা, অসহযোগিতার এক চূড়ান্ত নজির স্থাপন করল। গত ৮ ডিসেম্বর তিনি যখন সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট ওসির অপসারণ দাবি করেন, তখন তা আর কেবল তাঁর ব্যক্তিগত দাবি থাকে না—তা হয়ে ওঠে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল প্রতিটি নাগরিকের অস্তিত্বের দাবি।

কোটি তরুণের ‘মাইন্ড চার্জার
যারা ভাবছেন পেশিশক্তি প্রদর্শন করে, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে কিংবা মামলা না নিয়ে এই কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেবেন—তারা ইতিহাসের ভুল পাঠ নিচ্ছেন। তারা জানেন না, ব্যারিস্টার ফুয়াদ কোনো সাধারণ রাজনীতিবিদ বা তথাকথিত ‘মিনিস্টার’ (মন্ত্রী) হওয়ার দৌড়ে থাকা কোনো ব্যক্তি নন। তিনি এই সময়ের কোটি তরুণের ‘মাইন্ড চার্জার’। একটি বিলাসবহুল গাড়ি যেমন ব্যাটারি ছাড়া অচল ধাতব স্তূপ মাত্র, তেমনি জাতীয় হতাশার মুহূর্তে কোটি মানুষের মনের ‘চার্জ’ বা জ্বালানি হিসেবে যিনি কাজ করেছেন, তিনিই ব্যারিস্টার ফুয়াদ।
স্মরণ করা প্রয়োজন সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা, যখন জাতির আশার প্রদীপ নিভে আসছিল, চারদিকে ছিল শুধুই অন্ধকার। তখন এই মানুষটিই ছিলেন সেই ‘কেরোসিন’, যিনি প্রতিটি নিভে যাওয়া সলতেয় আগুন জ্বেলেছেন, জাতিকে পথ দেখিয়েছেন, আলো ছড়িয়েছেন। তাঁর সেই বজ্রকণ্ঠ, সেই ক্ষুরধার যুক্তি মানুষকে শিখিয়েছে—কীভাবে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে হয়। মনের জোর না থাকলে মানুষ যেমন অচল, তেমনি অনুপ্রেরণা না থাকলে জাতিও স্থবির। তিনি সেই স্থবিরতা কাটানোর কারিগর।
আজ তাঁকে একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী আসন বা থানার সীমানায় বেঁধে ফেলার যে অপচেষ্টা চলছে, তা হাস্যকর। তাঁর ব্যাপ্তি কোনো মাটির ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়। কানায় কানায় পরিপূর্ণ দেশপ্রেমিক সত্তা থেকে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা যায়—আজ যদি অনলাইনে বা স্বচ্ছ ব্যালটে গণভোট হয়, তবে তিনি কয়েক লক্ষ নয়, কয়েক কোটি মানুষের রায় পাবেন। কারণ, তাঁর আসন কোনো সংসদ ভবনের চেয়ারে নয়, তাঁর আসন কোটি বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায়।

রাষ্ট্রের উচিত ছিল তাঁর কাছে আজীবন ঋণী থাকা
রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মনে রাখা উচিত, মন্ত্রিত্বের একটি মেয়াদ থাকে, ক্ষমতার দম্ভের একটি শেষ থাকে। কিন্তু জনগণের হৃদয়ে যিনি স্থান করে নেন, সেই ‘মেগাস্টার’-এর কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ নেই। ব্যারিস্টার ফুয়াদ আজ বাংলাদেশের সেই মেগাস্টার। আক্ষরিক অর্থে তাঁর দেহে গুলিবিদ্ধ হলেও তিনি যে কষ্ট পেতেন, তার চেয়েও বেশি কষ্ট পেয়েছেন এই বিচারহীনতায়। অথচ এই মানুষটির অনলবর্ষী প্রেরণাতেই রাষ্ট্র আজ নতুন করে গড়ার স্বপ্ন দেখছে। তাঁর অবদানের জন্য রাষ্ট্রের উচিত ছিল তাঁর কাছে আজীবন ঋণী থাকা, অথচ সেই রাষ্ট্রই আজ তাঁকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।
ব্যক্তিগতভাবে এবং সচেতন সমাজের পক্ষ থেকে সেই অন্যায়কারীদের হয়ে আমরা ক্ষমা চাইছি। আমরা হাল ছাড়ার লোক নই। পুলিশ কেস না নিলেও, জনতার আদালতে এই হামলার বিচার অবশ্যই হবে। আমরা এখন কেবল ‘অ্যাসেস’ করছি। প্রতিটি ইটের জবাব পাথরে নয়, বরং আইনের শাসন এবং গণজাগরণের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হোক
চাঁদাবাজদের আস্ফালনে সত্যের কণ্ঠস্বর সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে, কিন্তু থামবে না। কারণ, ‘মেগাস্টার’দের অপমান করলে পুরো জাতি ‘অচল’ হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হোক—এটি কোনো অনুরোধ নয়, এটি একটি ঘোষণা!
