৩৫ ফুটের গর্তে ১৯ ঘণ্টা পার শিশু সাজিদের, উদ্ধারকাজ অব্যাহত
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীর তানোরে ৩০ থেকে ৩৫ ফুট গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ১৯ ঘণ্টা পার হলেও গভীর নলকূপের অব্যবহৃত বোরিংয়ে আটকা পড়া শিশুটিকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি। সাজিদের জন্য পুরো গ্রামেই বিরাজ করছে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি।
এর আগে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের ধান খড়ের মাঠে খেলতে খেলতে সাজিদ হঠাৎ ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের সেই অন্ধকার গর্তে পড়ে যায়। ছোট্ট শিশুটিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উদ্ধার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব
ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতার প্রাথমিক ধাপ পেরিয়ে এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি সরানো ছাড়া শিশু সাজিদকে উদ্ধার সম্ভব হচ্ছিল না। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাজিদকে উদ্ধারে এক্সক্যাভেটরের খোঁজ করা হচ্ছিল। কিন্তু তানোর উপজেলায় খোঁজ করেও কোনো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এক্সক্যাভেটর পাওয়া যাচ্ছিল না।
স্থানীয়রা বলেন, শিশুটি দুপুর ১টার দিকে গর্তে পড়ে গেলেও ঘটনাস্থলে এক্সক্যাভেটর আসতে আসতে রাত ৮টা বেজে যায়। স্থানীয় রাইসুল নামে একজন জানান, শুরুতেই বড় এক্সক্যাভেটর দিয়ে কাজ শুরু করা গেলে হয়তো দ্রুতই উদ্ধারকাজ শেষ হতে পারত।
তানোর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আব্দুর রউফ বলেন, “প্রথমে আমরা তানোর উপজেলায় খোঁজ করেছি, কোথাও এক্সক্যাভেটর পাইনি। পরে পাশের উপজেলা মোহনপুর থেকে দুটি ছোট এক্সক্যাভেটর নিয়ে এসে মাটি খননের কাজ শুরু করি। এরপর রাত পৌনে ২টার দিকে আরেকটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এক্সক্যাভেটর ঘটনাস্থলে আসে। সেটি দিয়ে দ্রুত মাটি খননকাজ করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করছি আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করতে পারবো।”
প্রশাসনের তৎপরতা
বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত তানোর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব শংকর বসাক এ প্রতিবেদককে জানান, গতকাল দুপুর থেকে এখন পর্যন্ত শিশু সাজিদকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ বাহিনী ছাড়াও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন। ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স ও ডাক্তার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
