নিউইয়র্ক ও সুপ্রিম কোর্টের চাপে ট্রাম্পের ক্ষমতাচর্চা ম্লান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ফাইল ছবি: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চলতি বছরের শুরুতে ক্ষমতায় বসার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশ–বিদেশের যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা রীতিনীতি তছনছ করে দিয়েছেন। বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছেন, মিত্রদের দূরে ঠেলে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোয় সেনা মোতায়েন করেছেন, সরকারি দপ্তরগুলো ওলট–পালট করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একপ্রকার নাজেহাল করে ছেড়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একচ্ছত্র ক্ষমতা অবশেষে কিছুটা ম্লান হয়েছে। তা ঘটেছে মাত্র দুই দিনে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কের মেয়রসহ বিভিন্ন নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা জয় পেয়েছেন। আর বুধবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে সংবিধান ট্রাম্পকে যে জরুরি ক্ষমতা দিয়েছে, তা ব্যবহার করে তিনি বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করতে পারেন কি না?

নির্বাচনী পরাজয় ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের উত্থান

ব্যাপক কূটকৌশলের পরও নিউইয়র্কের মেয়র হওয়া থেকে জোহরান মামদানিকে ঠেকাতে পারেননি ট্রাম্প। ভার্জিনিয়া ও নিউ জার্সিতে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবিগালি স্প্যানবার্গার ও মিকি শেরিল। যদিও এই এলাকাগুলোয় ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বেশি, তারপরও তাঁরা যে বড় জয় পেয়েছেন, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি রিপাবলিকানরা।

এই জয়ের আগে থেকেই যদিও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া শুরু করেছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গাভিন নিউসম ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘ভালুককে খোঁচা দিলে সে গর্জন করে রুখে দাঁড়াবেই।’

একচ্ছত্র ক্ষমতার ধারণা

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘অগাধ’ ক্ষমতা। তবে ট্রাম্পের মতো কোনো প্রেসিডেন্টই হোয়াইট হাউসকে রাজদরবার মনে করেননি। রিপাবলিকান কংগ্রেসে ট্রাম্পের এতটাই নিয়ন্ত্রণ যে তাঁর আগ্রাসী ক্ষমতাচর্চার ওপর নজরদারি করার মতো কেউ নেই। ট্রাম্পের জীবনের একটি মন্ত্র হলো—সব বাধার জবাব দিতে হবে আগ্রাসীভাবে।

সে হিসেবে মঙ্গলবারের ডেমোক্র্যাটদের জয়ের জবাব আগ্রাসীভাবে দিতে পারেন ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই তিনি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছেন। তিনি নিউইয়র্কে কেন্দ্রীয় তহবিল কমানোর হুমকি দিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন এবং সময়ের আগেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মানচিত্র পুননির্ধারণের চেষ্টা করছেন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এক অসাংবিধানিক ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন রয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বুধবারেই ট্রাম্প বলেছেন, ‘তাঁরা বলেন, আমি নাকি রাজা। আমি তা নই।’ তবে গত আগস্টে মন্ত্রিসভার বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্টই কিন্তু বলেছিলেন, ‘আমি যা চাই, তার সবকিছু করার অধিকার আমার আছে।’

সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ

প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সম্পর্কে ভুল ধারণা হয়তো ট্রাম্প পেয়েছিলেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল বিচারকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে। এই বিচারকেরাই চলতি বছরে এক ফৌজদারি মামলার রায় ট্রাম্পের পক্ষে দিয়ে বলেছিলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে যেকোনো সরকারি কর্মকাণ্ডের জন্য যথেষ্ট দায়মুক্তি পাবেন একজন প্রেসিডেন্ট।

কিন্তু সেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদেরই এখন শুল্ক আরোপ নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষমতার ব্যবহারে অসন্তুষ্ট মনে হয়েছে। বুধবার তাঁরা এই ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এ থেকে বোঝা গেছে, রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের কাছে বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপের যে অধিকার রয়েছে, তা সাংবিধানিকভাবে কাজ করছে। এতে কিছুটা হলেও ট্রাম্পের ক্ষমতাচর্চা ম্লান হয়েছে।

ট্রাম্প যা–ই করুন না কেন, তাঁর ওপর মার্কিনরা যে আস্থা হারাচ্ছেন, তা সম্প্রতি কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে। মঙ্গলবারে ডেমোক্র্যাটদের জয় এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচন রিপাবলিকানদের জন্য সহজ হবে না।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *