জাকসু নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ: ‘যুদ্ধের ময়দান থেকে লেজ গুটিয়ে পালানো’, অভিযোগ প্রার্থীর

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের এজিএস (পুরুষ) পদপ্রার্থী ফেরদৌস আল হাসান। আজ শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে।ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধি
সাভার ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২৩: ৪২
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য পদত্যাগ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের এজিএস (পুরুষ) প্রার্থী ফেরদৌস আল হাসান। তার মতে, পদত্যাগকারী কমিশনার যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়েছেন।
আজ শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ফেরদৌস আল হাসান এই মন্তব্য করেন। এর আগে, রাত পৌনে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলাভবনের নিচে সংবাদ সম্মেলন করে জাকসু নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে পদত্যাগের ঘোষণা দেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন।
সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের ব্রিফিংয়ে ফেরদৌস আল হাসান আরও বলেন, “জাকসুকে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একজন নির্বাচন কমিশনের সদস্য পদত্যাগ করেছেন, এটি খুবই প্রহসনমূলক আচরণ।” তিনি অভিযোগ করেন, পদত্যাগকারী কমিশনারের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তিনি তার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে না পেরে পদত্যাগ করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে কয়েকটি প্যানেল ভোট বর্জন করায় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ভোট বর্জন করা প্যানেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্রদল, প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতির ঐক্য, ছাত্র ইউনিয়ন এবং ছাত্রফ্রন্টের সংশপ্তক পর্ষদ।
ফেরদৌস আল হাসান বলেন, “আমরা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিয়েছি। যদিও নির্বাচনী ব্যবস্থার কিছু ত্রুটি ছিল, তারপরও শতকরা ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে, তারা জাকসু চায়।”
এদিকে, ম্যানুয়ালি ভোট গণনার তেমন কোনো প্রস্তুতি ছিল না বলে ফেরদৌস আল হাসান অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ভোট গ্রহণ শেষে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও শুধু হল সংসদের ভোট গণনা শেষ হয়েছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় সংসদের সব ভোট গণনা বাকি। সুতরাং, তিনি মনে করেন এই অবস্থার দায় পদত্যাগকারী কমিশনারকে নিতে হবে।
