মানসম্মত হাইব্রিড বীজ উৎপাদনে ভুটানে শুরু হলো সার্কের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ

স্টাফ রিপোর্টার

দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে মানসম্মত হাইব্রিড বীজ উৎপাদনে কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ভুটানে তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) ভুটানের ইউসিপাংয়ে ন্যাশনাল সেন্টার ফর অর্গানিক এগ্রিকালচারে এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়।

​‘সার্ক সদস্য দেশগুলোর জন্য সবজির হাইব্রিড বীজ উৎপাদন’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণটির আয়োজন করেছে ভুটানের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কৃষি বিভাগ। এতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে ঢাকার সার্ক কৃষি কেন্দ্র (SAC)। আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও অতিথিবৃন্দ

​প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভুটানের কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী লিয়নপো ইয়োনতেন ফুন্টশো। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক তানভীর আহমদ তরফদার।

​এ ছাড়া উদ্বোধনী পর্বে ভুটানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মালেকা পারভীন, ভুটানে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি নেহা যাদব এবং ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বহুপক্ষীয় বিষয়ক বিভাগের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

​অংশগ্রহণ ও মন্ত্রীর বক্তব্য

​প্রশিক্ষণে ভুটানের কৃষি বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশের কৃষি বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষণার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ভুটান থেকে প্রায় ৩০ জন গবেষক সরাসরি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন এবং বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়েছেন।

​উদ্বোধনী বক্তব্যে ভুটানের কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ইয়োনতেন ফুন্টশো কৃষি উৎপাদন বাড়াতে উদ্ভিদ প্রজনন, হাইব্রিড শক্তি এবং মানসম্মত বীজব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, রোগবালাই ও কীটপতঙ্গের ঝুঁকি মোকাবিলা করে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত বীজ প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বীজ প্রযুক্তি ও গবেষণায় বিনিয়োগের সুফল সরাসরি প্রান্তিক কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

​প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু ও লক্ষ্য

​তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে কারিগরি বক্তৃতার পাশাপাশি ব্যবহারিক অনুশীলন, গবেষণাগার ও মাঠ প্রদর্শনী এবং দলীয় শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে টমেটো ও মরিচের হাইব্রিড বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে—

  • ​মাতৃগাছ ব্যবস্থাপনা
  • ​পুংকেশর অপসারণ ও কৃত্রিম পরাগায়ন
  • ​জাতের জিনগত বিশুদ্ধতা রক্ষা
  • ​বীজ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ
  • ​বীজের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ

​—ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ ও হাতে-কলমে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

​আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হাইব্রিড বীজ উৎপাদনে আঞ্চলিক সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হবে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মানসম্মত বীজের প্রাপ্যতা বাড়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং স্থানীয় বীজ উৎপাদন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।