কোম্পানীগঞ্জে ৩ হাজার ৮০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে আমন বীজ ও সার বিতরণ

মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ৩ হাজার ৮০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

অতিথিবৃন্দের উপস্থিতি ও উদ্বোধন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম এবং কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুল হাকিম।

প্রণোদনার বিবরণ ও লক্ষ্য

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরকারি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩ হাজার ৮০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি করে উচ্চ ফলনশীল আমন ধানের বীজ, ২০ কেজি করে রাসায়নিক সার এবং নারিকেলের বীজ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।

এই সহায়তা আবাদি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং দরিদ্র কৃষকদের উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কৃষিবান্ধব নীতি ও টেকসই উন্নয়ন

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, কৃষিই দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়ন ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সুষম সার ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের অধিক ফলন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উপকারভোগী কৃষকদের প্রতিক্রিয়া

আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের হাতে বীজ ও সার তুলে দেন। সঠিক সময়ে সরকারি এই সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় উপকারভোগী কৃষকেরা। তারা জানান, চলতি আমন মৌসুমে এই প্রণোদনা পাওয়ায় তাদের চাষাবাদের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমে যাবে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *