মাদারগঞ্জে গ্রাহকদের ১০ লাখ টাকা নিয়ে ব্র্যাক কর্মী উধাও; থানায় এসে অবরুদ্ধ মা
আনিছুর রহমান আইয়ুব, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে ব্র্যাকের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির এক নারী মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে শতাধিক গ্রাহকের প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মাঠকর্মীর নাম আশা আক্তার। গত বুধবার (২৪ জুন) থেকে তিনি কর্মস্থল ও এলাকা থেকে সম্পূর্ণ নিখোঁজ রয়েছেন। এদিকে মেয়ের সন্ধান করতে এসে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের তোপের মুখে অবরুদ্ধ হয়েছেন আশা আক্তারের মা।
দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা ও অভিনব প্রতারণার কৌশল
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ব্র্যাকের মাইক্রোফিন্যান্স কর্মসূচিতে ‘সিডিও’ (CDO) বা মাঠকর্মী পদে যোগদান করেন আশা আক্তার। যোগদানের পর থেকে উপজেলার ৩টি নির্দিষ্ট এলাকায় ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের পুরো দায়িত্বভার তাঁর ওপর অর্পিত ছিল। এলাকাগুলো হলো:
- গাবের গ্রাম
- তারতা পাড়া
- জোড়খালি
এসব এলাকায় গ্রাহকদের ঋণ প্রদান এবং মাঠপর্যায় থেকে কিস্তির টাকা তোলার কাজ তিনিই করতেন। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, গত দুই মাসে এই তিন এলাকার শতাধিক গ্রাহককে ব্র্যাক থেকে ঋণ পাইয়ে দিয়ে এক অভিনব কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেন আশা। তিনি কোনো গ্রাহককে ১ লক্ষ টাকা ঋণ দিলে, চড়া সুদের প্রলোভন দেখিয়ে কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনের কথা বলে ওই গ্রাহকের কাছ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা নিজের কাছে রেখে দিতেন। অল্প সময়ে মাঠপর্যায়ে লেনদেন ভালো থাকায় সরল বিশ্বাসে গ্রাহকরাও তাঁকে টাকা দিতেন।
হঠাৎ নিখোঁজ ও অফিসিয়াল বক্তব্য
বিপত্তি শুরু হয় গত ২৪ জুন (বুধবার)। ওই দিন সকাল থেকে আশা আক্তার অফিসে না আসায় এবং তাঁর দায়িত্বে থাকা এলাকায় না যাওয়ায় খোঁজ শুরু হয়। ব্র্যাকের মাদারগঞ্জ ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মাজারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান—
”গত ২৪ জুন থেকে মাঠকর্মী আশা আক্তার হঠাৎ করেই কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়া অফিস ও কর্তৃপক্ষের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তাঁর ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এরপরই মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে তাঁর এই বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পারি।”
মেয়ের সন্ধানে এসে থানায় অবরুদ্ধ মা
এদিকে মাঠকর্মী আশা আক্তার উধাও হওয়ার পর তাঁর কোনো খোঁজ না পেয়ে চিন্তিত পরিবার মাদারগঞ্জ মডেল থানায় আসে। আশার মা তাঁর মেয়ের নিখোঁজের বিষয়ে পুলিশকে জানাতে ও সন্ধানের দাবি নিয়ে থানায় উপস্থিত হন।
এই খবর মুহূর্তের মধ্যে ব্র্যাকের কর্মকর্তা ও প্রতারিত শত শত গ্রাহকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই গাবের গ্রাম, তারতা পাড়া ও জোড়খালি এলাকার ভুক্তভোগী নারীরা মাদারগঞ্জ মডেল থানায় এসে সমবেত হন। এ সময় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা টাকা আদায়ের দাবিতে থানার ভেতরেই আশা আক্তারের মাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং চালকের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিখোঁজ আশা আক্তারকে আটক এবং আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
