সেনবাগে স্কুল ক্যাম্পাসে ইভটিজিং: ৩ বহিরাগত আটক, ২ ছাত্রী বহিষ্কার

মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ইভটিজিংয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তিন বহিরাগত যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সাথে এই ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে দুই ছাত্রীকে বহিষ্কারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি শুধু একটি বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয় নয়; বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ এবং অভিভাবকদের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ সৃষ্টি করেছে।

বহিরাগত যুবক আটক ও পুলিশে সোপর্দ

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) সকাল প্রায় ১০টার দিকে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে কয়েকজন বহিরাগত যুবকের সন্দেহজনক উপস্থিতি ও ছাত্রীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তিনজন বহিরাগত যুবককে আটক করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের জন্য তাদের সেনবাগ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে দুইজনের বয়স ১৭ এবং একজনের বয়স ১৮ বছর বলে জানা গেছে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে দুই ছাত্রী বহিষ্কার

এদিকে, ইভটিজিংয়ের এই ঘটনার সঙ্গে বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ওই দুই ছাত্রীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও মতভেদ দেখা দিলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে— শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক ও পুলিশের বক্তব্য

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তার হোসেন ইকবাল এ বিষয়ে বলেন,

“শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো জ্ঞানচর্চা ও চরিত্র গঠনের পবিত্র স্থান। বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও নিরাপদ পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতেই এই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

সেনবাগ থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *