চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষছাত্রদলের লাল কার্ড মিছিল, প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে শাখা ছাত্রদলের লাল কার্ডমিছিল। আজ দুপুরে ক্যাম্পাসের কাটাপাহাড় সড়কেছবি: জুয়েল শীলক

সংবাদদাতা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৮: ১১

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে লাল কার্ড মিছিল করেছেন শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। আজ রোববার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে এ মিছিল শুরু হয়। পরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক সমাবেশের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শেষ হয়।

অন্যদিকে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে আরও দুটি পক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ও ‘দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ’–এর ব্যানারে এই দুই কর্মসূচি হয়। এ ছাড়া সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদকে লাঞ্ছনার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

ছাত্রদলের কর্মসূচির বিষয়ে শাখা সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ব্যর্থ এ প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। তাই তাঁরা লাল কার্ড দেখিয়েছেন। এটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ। এ ছাড়া গতকাল ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এক ছাত্রীকে হুমকি দিয়েছেন। তাঁরা এর নিন্দা জানিয়ে এ কর্মসূচি পালন করেছেন।

সংগঠনটির শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ প্রশাসনের বিরুদ্ধে আমরা লাল কার্ড দেখিয়েছি। উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দুই নারী শিক্ষার্থীকে হুমকি দিয়েছেন—আমরা তাঁদের লাল কার্ড দেখিয়েছি। আমরা অবিলম্বে এই নারীবিদ্বেষী ও ব্যর্থ প্রশাসনের পদত্যাগ দাবি করছি।’

ছাত্রদল ছাড়াও বেলা দুইটার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট ও নারী অঙ্গনের নেতা-কর্মীদের যৌথ উদ্যোগ ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ এবং দর্শন ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ভবনে উপাচার্য, দুই সহ-উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের কার্যালয় রয়েছে।

অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে আন্দোলনকারীদের অবস্থান। আজ বেলা দুইটার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে
ছবি: জুয়েল শীল

অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’–এর কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ও বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ধ্রুব বড়ুয়া বলেন, তাঁরা তিন দিন ধরে আন্দোলন করছেন। তাঁদের অন্যতম দাবি হলো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ। দ্রুত প্রক্টরিয়াল বডিকে পদত্যাগ করতে হবে।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় ভাড়া বাসায় ছাত্রীকে মারধরের ঘটনায় বিচার চেয়েছেন দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তাঁর ব্যর্থতার দায় নিয়ে প্রশাসনকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। জানতে চাইলে দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শিশির মাহমুদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার জোবরার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এক ছাত্রীকে অপবাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। ছাত্রীর গায়ে আঘাত করা ওই দারোয়ানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। দ্রুত ব্যর্থ এ প্রশাসনের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন তিনি।

বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অবস্থান। আজ বেলা দুইটার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে
ছবি: জুয়েল শীল

এ তিন পক্ষের দাবি প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবি হলেও আরেক দল সহকারী প্রক্টরকে হেনস্তার অভিযোগ তুলে অবস্থান নেয়। তারা দাবি করে, গতকাল শনিবার সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদকে হেনস্তা করা হয়েছে।

কর্মসূচিতে ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদুর রহমান বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও কিছু শিক্ষার্থী আমাদের বিভাগের এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছে। তিনি সংঘর্ষের দিন ছুটিতে ছিলেন। এ ধরনের লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে আমরা তীব্র নিন্দা জানিয়ে আজকের কর্মসূচি পালন করেছি।’

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *