শিশু আয়েশা সিদ্দিকা হত্যার মূল আসামি গ্রেফতার: নেপথ্যে ছিল শিশুদের খেলা
মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে চাঞ্চল্যকর শিশু আয়েশা সিদ্দিকা (২) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার ১২ দিন পর মূল অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে চিলমারী মডেল থানা পুলিশ। শুক্রবার (১ মে ২০২৬) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্ধা (শাহাপাড়া) গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মাচাবান্ধা গ্রামের মঞ্জু মিয়ার ছেলে রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০) এবং তাঁর স্ত্রী কহিনুর বেগম (২৬)। নিহত আয়েশা সিদ্দিকা একই এলাকার আলমগীর হোসেনের মেয়ে।
হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা
চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নয়ন কুমার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার দিন আয়েশা ও আসামিদের সমবয়সী শিশু সন্তান একসাথে খেলছিল। খেলার ছলে আসামিদের সন্তানটি আয়েশার চোখে মারাত্মক আঘাত করে।
এই বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ধামাচাপা দিতে ঘাতক দম্পতি শিশু আয়েশার মুখ চেপে ধরে একটি ড্রামে আটকে রাখেন। সেখানে শ্বাসরোধ হয়ে শিশুটি মারা গেলে পরে লাশ বাইরে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশের সাফল্য ও প্রশংসা
গত ১২ দিন আগে আয়েশা সিদ্দিকার রহস্যজনক মৃত্যু হলেও হত্যাকাণ্ডের কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছিল না পুলিশ। অবশেষে নবাগত ওসি নয়ন কুমারের নেতৃত্বে নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে ঘাতকদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করায় চিলমারী মডেল থানার পুলিশ সদস্যদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
